ইসলামের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ

"আসসালামুয়ালাইকুম" আসা করি সবাই ভালো আছেন , সামনে আসছে পহেলা নবর্বষ। ইসলাম এই নবর্বষ কে হারাম করে দিয়েছে। কারন বর্তমানে নবর্বষ পালন করা মানে অশ্লীলতা কাজে জরিয়ে পরা। নারীকে জড়িয়ে ধরে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা করা এবং আরো কত কি । আরও অনেক কিছু জানার জন্য দয়া করে সম্পূর্ন লেখাটি পড়েন । সবাইকে ধন্যবাদ । 

এপ্রিল মাসে আমরা বাংলাদেশীরা একটি উৎসব করে থাকি, তা হলো ১৪ই এপ্রিল। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা। প্রজারা চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারগন প্রজাদের মিষ্টি মুখ করাতেন এবং কিছু আনন্দ উৎসব করা হত। এছাড়া বাংলার সকল ব্যবসায়ী ও দোকানদার পহেলা বৈশাখে “হালখাতা” করতেন। পহেলা বৈশাখে এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটি মূলতঃ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন নিয়ম কানুনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে কাজ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ছিল। এ ধরনের কিছু মূলত ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

কিন্তু বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এমন কিছু কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে যা কখনোই পূর্ববর্তী বাঙালিরা করেনি। পহেলা বৈশাখের নামে যুবক-যুবতী , কিশোর কিশোরীকে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এদেশের মানুষ যা জানত না, এখন পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের নামে তা আমাদের সংস্কৃতির অংশ বানানো হচ্ছে।

আমাদের দেশজ সংস্কৃতির অনেক ভাল দিক আছে। সামাজিক শিষ্টাচার, জনকল্যাণ, মানবপ্রেম ইত্যাদি সকল মূল্যবোধ আমরা সমাজ থেকে তুলে দিচ্ছি। পক্ষান্তরে দেশীও সংস্কৃতির নামে অশ্লীলতার প্রসার হচ্ছে। বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, মাদকতা ও অপরাধ একসূত্রে বাধা। অনন্যা অপরাধ ও অশ্লীলতার মধ্যে পার্থক্য হল কোন একটি উপলক্ষে একবার এর মধ্যে নিপতিত হলে সাধারণভাবে যুবক-যুবতী , কিশোর কিশোরী আর এ থেকে বেরোতে পারে না। বরং আরও বেশী পাপ ও অপরাধে নিপতিত হতে থাকে। কাজেই নিজে, নিজের পরিজন ও সন্তানদেরকে সকল অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করুন।

আল্লাহ বলেছেনঃ 
“তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। যার ইন্দন হবে মানুষ ও পাথর,যার উপর নিয়জিত রয়েছেন কঠোর হৃদয় সম্পন্ন ফেরেশতাগন, তারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তা বাস্তবায়নে অবাধ্য হন না।,আর তাদের যা নির্দেশ দেয়া হয় তা-ই তামিল হয়” (সুরাহ আত- তাহরীমঃ ০৬)

নবর্বষের অনুষ্টানাদি শয়তানের পুরোনো কূটচালের নবায়নঃ
আমাদের সমাজে যারা নবর্বষ যারা করে, তারা কি ধরনের অনুষ্ঠান পালন করে, আর সেগুলো সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কি? নবর্বষের অনুষ্টানাদির মধ্যে রয়েছেঃ ব্যান্ড সঙ্গীত বা অন্যান্য গান-বাজনা ব্যবস্থা, সম্ভ্রান্ত পল্লীর বাড়ীতে বা ক্লাবে গান-বাজনা মদ্যপান, পান শেষে ব্যভিচারের আয়োজন , পরিবেশ এছাড়া পটকা ফুটিয়ে বা আতশবাজি পুড়িয়ে রাত ১২টায় হৈ হুল্লোড় করে প্রতিবেশের শান্তি বিনষ্ট করে নবর্বষকে স্বাগত জানানো । এবং রেডিও টিভিতে বিশেষ অনুষ্টান তো রয়েছেই।

নারীকে জড়িয়ে বিভিন্ন অশ্লীলতাঃ
নববর্ষের পার্টি বা উদযাপন আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে নারীর। নবর্বষের অনুষ্টানের মধ্যে সমাজ-বিধ্বংসী যে বিষয়গুলো পাওয়া যাবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারীকে জড়িয়ে ধরে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা। নবর্বষের পার্টি বা উদযাপন আয়োজনের সবর্ত্রই সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী নারীকে পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হয়ে থাকা দেখা যাবে । পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে যে সকল আকষর্ণীয় বস্তু দ্বারা পরীক্ষা করে থাকেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারী। রাসূলুল্লাহ(সা.) বলেন:
“আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।,, 
(বুখারী ও মুসলিম )

➤ অপরদিকে মুসলিমদের উৎসব হচ্ছে ইবাদতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই বিষয়টি বুঝতে হলে ইসলামের সার্বিকতাকে বুঝতে হবে। ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং তা মানুষের গোটা জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী বিন্যস্ত ও সজ্জিত করতে উদ্যোগী হয়। তাই একজন মুসলিমের জন্য জীবনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইবাদত, যেমনটি কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিচ্ছেন। 
“আমি জ্বিন ও মানুষকে আমার ইবাদত করা ছাড়া অন্য কোন কারণে সৃষ্টি করিনি।”
 [সূরা যারিয়াত:৫৬]

➤ কেউ যদি এই ধারণা পোষণ করে যে, নববর্ষের প্রারম্ভের সাথে কল্যাণের কোন সম্পর্ক রয়েছে, তবে সে শিরকে লিপ্ত হল, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করল। যদি সে মনে করে যে আল্লাহ এই উপলক্ষের দ্বারা মানবজীবনে কল্যাণ বর্ষণ করেন, তবে সে ছোট শিরকে লিপ্ত হল। আর কেউ যদি মনে করে যে নববর্ষের আগমনের এই ক্ষণটি নিজে থেকেই কোন কল্যাণের অধিকারী, তবে সে বড় শিরকে লিপ্ত হল, যা তাকে ইসলামের গন্ডীর বাইরে নিয়ে গেল। আর এই শিরক এমন অপরাধ যে, শিরকের ওপর কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে চিরতরে হারাম করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

“নিশ্চয়ই যে কেউই আল্লাহর অংশীদার স্থির করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন, আর তার বাসস্থান হবে অগ্নি। এবং যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” [সূরা মায়িদাহ :৭২]

➤ সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষ সংক্রান্ত যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা নিচে দেয়া হল যে চারটি শ্রেণীর ইসলাম বিরোধী বিষয় রয়েছে।
১. শিরকপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি, চিন্তাধারা ও সংগীত

২. নগ্নতা, অশ্লীলতা, ব্যভিচারপূর্ণ অনুষ্ঠান
৩. গান ও বাদ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান
৪. সময় অপচয়কারী অনর্থক ও বাজে কথা এবং কাজ।

আসা করি লেখা গুলো সবার ভালো লাগবে। আসছে পহেলা নবর্বষ আমরা যারা মুসলমান আছি তারা সবাই সাবধান হয়ে যাই। এবং পোস্টি শেয়ার করে আপনি আপনার প্রিয় জনকে সাবধান করে দেন যাতে এইসব অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে । সবাই কে ধন্যবাদ ।

0 comments: