কয়েকটা বদ অভ্যাস ও পাপ এবং তা বর্জনের উপায় । (১)

গান-বাদ্য শ্রবণ :
     আবূ দাঊদ, ইবনে মাজা, সহীহ ইবনে, হিব্বান, মুসনাদে আহমদ প্রভৃতি হাদীছের কিতাব বর্ণিত নির্ভরযোগ্য হাদীসে গান-বাদ্য হারাম হওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ এসেছে। কুরআন শরীফেও এরূপ বর্ণনা এসেছে।  কেবল সুললিত কণ্ঠে যদি কোন কবিতা পাঠ করা হয় এবং পাঠক নারী বা কিশোর না হয়, সাথে সাথে কবিতার বিষয়বস্তূ অশ্লীল বা অন্য কোনো পাপযুক্ত না হয় তাহলে তা জায়েয।  যদি কেউ গান-বাদ্য শ্রবণের বদ অভ্যাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে তাহলে তার থেকে পরিত্রানের উপায় হল- 
১। গান-বাদ্যের প্রতি স্বভাবগত আকর্ষণ থেকে থাকে, এ আকর্ষণ সম্পূর্ণ বিলীন করে দেয়া স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব।  তবে মনে চাইলেই ইচ্ছাকৃতভাবে মনের চাহিদার বিরুদ্ধে তা থেকে বিরত থাকতে হবে , এতে কষ্ট হলেও কারও তাড়াতাড়ি বা কারও ধীরে ধীরে সেই চাহিদা দুর্বল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।  
২। গান-বাদ্যের উপকরণ ও পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে হবে।
 উল্লেখ্য, গান-বাদ্য হারাম হওয়া সম্পর্কিত দলিল-প্রমান জানতে চাইলে আমার রচিত " ইসলামী আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ " গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ড দেখুন।  


অশ্লীল উপন্যাস, কবিতা ও নভেল নাটক পাঠ :
অনেক যুবক-যবতী অশ্লীল উপন্যাস , নভেল-নাটক , পেশাদার অপরাধীদের কাহিনী অথবা অশ্লীল কবিতা পাঠের বদ অভ্যাসে অক্রান্ত। এসব বিষয়ও নিষিদ্ধ।  এ সবের বদ অভ্যাস   থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ বর্ণিত পন্থাসমূহ প্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে মনের চাওয়ার বিরুদ্ধে তা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এসবের উপকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে।  কিছু দিন এরূপ করলেই মনের এসব চাহিদা দুর্বল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। 

সিনেমা , বায়স্কোপ ও অশ্লীল ছায়াছবি দর্শন :
এগুলোর মধ্যে পাঁচ রকমের পাপ রয়েছে।  
(১) সময় নষ্ট। 
(২) সম্পদ নষ্ট।  
(৩) স্বভাব-চরিত্র নষ্ট। 
(৪) স্বাস্থ্য নষ্ট। 
(৫) ঈমান ও আমল নষ্ট।  
যদি নারী চরিত্র ও অশ্লীলতাকে বাদ দিয়ে শিক্ষামূলক ফিল্ম তৈরী করা হয় , তাহলে তার মধ্যে এতগুলো পাপ থাকবে না শুধু জীবনের ছবি তোলার পাপ থাকবে।  আর জীবনের ছবিও বাদ দিয়ে শুধু সু-শিক্ষামূলক ফিল্ম তৈরী করা হলে তাতে কোনো পাপ থাকবে না।  সিনেমার পার্ট ও প্লে করা ,এর ব্যবসা করা এবং এডভার্টাইজ করা সবাই কবিরা গুনাহ। সিনেমা বায়স্কোপ দেখার বদ অভ্যাস থেকে পরিত্রানের জন্য পরিবর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণিত পন্থাসমূহ গ্রহণ করতে হবে।  

মদ , গাজা , ভাং, আফিম , হেরোইন প্রভৃতির নেশা : 
শরীআতে এসব নেশাকর দ্রব্য সম্পূর্ণ হারাম , অল্প হোক চাই বেশি হোক।  এ সবের শারীরিক , আত্নিক , নৈতিক আর্থিক ও জাগতিক বিভিন্ন প্রকারের ক্ষতির কারণেই শরীআত এগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে।  এ সবের বদ-অভ্যাসে কেউ জড়িত হয়ে পড়লে তা ছাড়ানো কঠিন ও কষ্টকর । তবে নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহ গ্রহণ করলে  ফল পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।  
১।  প্রথমত এসব নেশার মন্দ ও ক্ষতিকর দিকগুলো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির মনে বদ্ধমূল করতে হবে এবং তার মনে এর প্রতি ভয়, আতংক ও ঘৃণা জাগিয়ে তুলতে হবে।  
২।  যেকোন নেশাজনিত অভ্যাস হঠাৎ ত্যাগ করা মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর , তাই নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে মন্থর গতিতে অল্প অল্প করে তা থেকে বেরিয়ে আন্তে হবে।  
৩।  তার কাছ থেকে নেশার উপকরণ , পাত্র তৈজসপত্র ইত্যাদি দূরে সরিয়ে দিতে হবে বা তাকে নেশাটির উপকরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে , যতদিন পর্যন্ত তার মন থেকে নেশার ঘোর সম্পূর্ণ কেটে না যায়।  
৪।  সবচেয়ে বড় কথা মানুষ ইচ্ছা ও সাহস করলে অনেক কঠিন কিছুও করে ফেলতে পারে- নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির মনে এরূপ ইচ্ছা ও সাহস জাগিয়ে তুলতে হবে।  

অপব্যয় :
শরীআতের আলোকে যে ক্ষেত্রে ব্যয় করা নিষেধ সে ক্ষেত্রে ব্যয় করাকে বলা হয় তাবযীয় বা অপব্যয়। কুরআনে করিম অপব্যয়কারীকে ''শয়তানের ভাই'' বলে আখ্যায়িত করছে। অপব্যয় করা গোনাহে কবীরা।  
যেনা (ব্যভিচার): 
যেন অর্থাৎ, নারীর সতীত্ব নষ্ট করা এবং পুরুষের চরিত্র নষ্ট করা।  এটা অতি জঘন্য কবীরা গোনাহ।  বিবাহিত অবস্থায় যেন করলে এবং তা স্বীকার করলে অথবা চার জন সত্যবাদী 
চাক্ষুস সাক্ষীর দ্বারা প্রমাণিত হলে তার শাস্তি পাথর মেরে প্রাণ বধ করে ফেলানো।  আর অবিবাহিত অবস্থায় অনুরূপভাবে যেনা প্রমান হলে তার শাস্তি একশত বেত্রাঘাত।  তবে উল্লেখ্য যে , একমাত্র শরঈ কাজীই এ শাস্তি প্রয়োগ করতে পারে , অন্য কেউ নয়। (এ সম্পর্কে আরো অনেক জানতে আমাদের সাথেই থাকুন " ধন্যবাদ " )

এই হাদিস টিঃ আহকামে যিন্দেগী বই থেকে নেয়া । 
পেজ নং : ৬৩২ -৬৩৫। 

0 comments: