কয়েকটা বদ অভ্যাস ও পাপ এবং তা বর্জনের উপায় । (৩)

গীবতের বদ অভ্যাস পরিত্যাগের জন্য করণীয় হলঃ-
১। কারও গীবত করে ফেললে তার প্রশংসা করা । 
২। তার জন্য দুআ ও এস্তেগফার করা । 
৩। তাকে এ বিষয়টা জানিয়ে দিয়ে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা । তবে হিতে বিপরীত হওয়ার আশংকা থাকলে তাকে জানাবে না । 
৪। কারও সর্ম্পকে কিছু বলতে মনে চাইলেও চিন্তা করে নেয়া যে, এটা গীবত হয়ে যাচ্ছে না তো? যদি গীবতের পর্যায়ভুক্ত হয় তাহলে তা না বলা । 
৫। গীবত হয়ে গেলে নিজে তওবা-এস্তেগফার করা এবং ভবিষ্যতে আর গীবতে না করার প্রতিজ্ঞা করা । 
৬। গীবত কখনো ক্রোধ থেকে করা হয়, কখনও অহংকারের কারণে হয়, কখনও সম্মানের মোহ থেকে হয়, আবার কখনও হিংসা-বিদ্বেষ চরিতার্থ করার জন্য হয়ে থাকে । যে কারণে গীবত হয় সে কারণের চিকিৎসা করা দরকার । 


গালি-গালাজ ও অশ্লীল কথা বলাঃ-
যেটা প্রকাশ করতে মানুষ শরম বোধ করে, এটাকেই পারিষ্কার ভাষায় ব্যক্ত করাকে বলা হয় গালি বা অশ্লীল কথা । আর যদি সেটা অবাস্তব হয় তাহলে মিথ্যা অপবাদের গোলাহও হবে। কাউকে গালি দেয়া হারাম, এমনকি কাফের বা জীবজন্তুকেও । 
মিথ্যা ও বেশি কথা বলার বদ অভ্যাস পরিত্যাগের জন্য , বেশি কথা বলাঃ- এই অনুচ্ছেদের ১,২ও৩ পড়ুন । 

মিথ্যা বলাঃ-
যেটা বাস্তব নয় এরূপ কথা হল মিথ্যা । মিথ্যা বলা গোনাহে কবীরা । তাহকীক-তদন্ত ও যাচাই না করেই কোন কথা বর্ণনা করা বা তাহকীক ছাড়াই যেকোনো কথা শুনে তা বলে দেয়াও মিথ্যা বলার মত গোনাহ । তবে নির্ভরযোগ্য ব্যাক্তি বা নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে কোন কথা জানালে তা তাহকীক ছাড়াই বলা ও বর্ণনা করা যায়। চারটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা হারাম ও গোনাহে কবীরা এবং হাদীছে মিথ্যাকে গোনাহের মাতা অর্থাৎ, বহু গোনাহের জন্মদাত্রী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে । 
যে চারটি ক্ষেত্রে মিথ্যা বা অবাস্তব বলার অনুমতি রয়েছে, তা হল- 
১। বিবদমান দুইজন বা দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ নিরাসন ও মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দেয়ার উদ্দেশ্যে। 
২। স্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে । 
৩। যুদ্ধের সময় যুদ্ধের কৌশল হিসাবে। তবে কেউ কেউ এ ক্ষেত্রেও সরাসরি মিথ্যা না বলে প্রকৃত সত্য উহ্য থাকে এমনভাবে কিছু ইংগিত করে দেয়ার কথা বলেছেন। 
৪। নিজের প্রকৃত হক উদ্ধারের জন্য় কিংবা নিজের অথবা অপরের বড় ধরনের ক্ষতি ঠেকানোর জন্যও মিথ্যা বলার অনুমতি রয়েছে । এ নীতির অধীনেই চোর ডকাতের কাছে নিজের টাকা-পয়সা ও মালের কথা অস্বীকার করা যায়, অন্য ভাইয়ের গুপ্ত ভেদ কেউ জানতে চাইলে তা অস্বীকার করা যায় । আর যে ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ওয়াজিব তা হল- সত্য বললে খুব মারাত্নক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিলে এবং মিথ্যা বলা দ্বারা সে ক্ষেতি থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বোধ হলে সেরূপ ক্ষত্রে মিথ্যা বলা ওয়াজিব হয়ে যায় । তাই কোন ক্ষেত্রে সত্য বলা দ্বারা অন্যায়ভাবে নিজের বা অন্যের জীবন হানির সম্ভাবনা দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হলে তা করা ওয়াজিব । 
     মিথ্যা বলার বদ অভ্যাস পরিত্যাগের জন্য একটা জিনিসেরই প্রয়োজন, আর তা হল "ইচ্ছা" । প্রত্যেকটা কথা বলার পূর্বে চিন্তা করা যে, এটা মিথ্যা নয়তো? হলে তা বর্জন করা । এভাবেই মিথ্যা বর্জনের অভ্যাস গড়ে উঠবে । 

বেশি কথা বলাঃ- 
দ্বীনী ও প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া বেশি কথা বলাও একটা বদ অভ্যাস । প্রয়োজনীয় কথা হলঃ- (এক)
যা নেকী অর্জনের উদ্দেশ্যে বলা হয় । (দুই) যা গোনাহ থেকে বাচার জন্য বলা হয় । (তিন) যা না বললে পার্থিব ক্ষতি হয় ।
বেশি কথা বলা দ্বারাও মানুষ শত শত গোনাহে লিপ্ত হয় । যেমনঃ- মিথ্যা বলা, গীবত করা , নিজের বড়ায়ী বয়ান করা, কাউকে অভিশাপ দেয়া, কারও সাথে  অহেতুক তর্ক জুড়ে দেয়া, অতিরিক্ত হাসি-ঠাট্রা করতে গিয়ে কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলা ইত্যাদি। ের বিপরীত কম কথা বলার অভ্যাস থাকলে বহু পাপ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। তাই কম কথা বলা ভাল। বেশি বলার রোগের চিকিৎসা হল-
১। কথা বলার পূর্বে চিন্তা করে নেয়া যে, ছওয়াবের বা দরকারী হলে বলা আর অনুরূপ না হলে বর্জন করা ।
২। ভিতর থেকে নফস বলার জন্য খুব বেশি তাগাদা করলে তাকে এই বলে বোঝানো যে, এখন চুপ থাকতে যে কষ্ট, তার চেয়ে বেশি কষ্ট হবে দোযখের আযাবে । একান্তই না বলে থাকতে না পারলে অল্প বলে চুপ হয়ে যাবে । এভাবে কথা কম বলার অভ্যাস গড়ে উঠবে ।
৩। একান্ত জরূরত না হলে কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করবে না ।
(পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না ।) ---ধন্যবাদ---

এই হাদিস টিঃ ''আহকামে যিন্দেগী'' বই থেকে নেয়া । 
পেজ নংঃ- ৬৩৮-৬৪১ পর্যন্ত।  

0 comments: