স্ত্রীকে শাসন করার পদ্ধতি ও মাসায়েল

* হাদীছের বর্ণনা অনুযায়ী নারীগণ বক্র স্বভাবের হয়ে থাকে।  তাদেরকে একেবারে ছেড়ে দিলে বক্রই থেকে যাবে , আবার অতিরিক্ত কড়া শাসন পূর্বক সপূর্ণ সোজা করতে চাইলে ভেঙে যাবে।  তাই নারীদেরকে শাসনও করতে হবে এবং শাসনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে।  তাদেরকে সংশোধনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে , তবে পূর্ণ সংশোধন  হবে- এমন আশা রাখা যায় না।  

*  স্ত্রী অবাধ্য হলে বা যথাযথ আনুগত্য না করলে তাকে সংশোধনের জন্য পূর্বের পরিচ্ছেদে বর্ণিত ধারায় পদক্ষেপ নিতে হবে।  অর্থাৎ, প্রথমে তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে এবং উপদেশ দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।  এ উদ্যোগ ব্যর্থ হলে বিছানায় তাকে ত্যাগ করতে হবে।  এ পন্থায়ও সংশোধন না হলে তারপর তাকে কিছুটা হালকা মারধর করেও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। অনেক মুফাস্সিরের মতে ও তিনটি পন্থা মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব।  অর্থাৎ, বোঝানো  ও বিছানায় ত্যাগ করার পন্থাদ্বয় গ্রহণ না করে প্রথমেই মারধর করে সংশোধন করতে যাওয়া বৈধ নয়।  

* স্ত্রীকে মারধর করার ব্যাপারে যে অনুমতি দেয়া হয়েছে সে ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে- এ মারধর অর্থ নির্যাতন করা নয় , তাকে কষ্ট দেয়া নয় , তাকে লাঞ্ছিত করা নয় বরং তার আত্নমর্যাদায় আঘাত দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।  এ জন্যই ফোকাহায়ে কেরাম শর্ত করেছেন, শরীর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়- এমনভাবে মারা যাবে না , চেহারায় মারা যাবে না, কোন কোন  মুফাস্সির বলেছেন, এক স্থানে একাধিক বার আঘাত করা যাবে না এবং কোন কোন মুফাস্সির বলেছেন, মারবে রুমাল বা কাপড় পেঁচিয়ে  তা দ্বারা বা মেসওয়াক দ্বারা তদুপরি এই যতটুকু মারধর করার অনুমতি দেয়া হয়েছে তা-ও  সব ক্ষেত্রে নয় বরং ফোকাহায়ে কেরাম বলেছেন , সাধারণভাবে চার কারণে মারা যেটা পারে। যথা:- (এক) স্বামী যৌন চাহিদা পূরণ করতে আহবান করার পরও স্ত্রী যদি অমান্য করে। (দুই) স্ত্রী শরীআতসম্মত ওজর ছাড়া স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাড়ি থেকে বের হলে।  (তিন) স্বামী বলা সত্বেও যদি স্ত্রী সাজসজ্জা ও রূপচর্চা না করে। (চার) শরীআতের ফরয কাজ পরিত্যাগ করলে; যেমন: নামায না পড়লে, ফরয গোসল না করলে, কোনো ওজর ছাড়াও রোযা না রাখলে ইত্যাদি। 

* সর্বোপরি কথা হল- মারধর করার অনুমতি রয়েছে বটে, কিন্তু সেটা পছন্দনীয় পন্থা নয়।  হযরত রসূল (সা.) এ পর্যায়ের শান্তি দানকে পছন্দ করেননি বরং তিনি বলেছেন, ভাল লোক এমন করে না।
  
* স্ত্রীকে শাসন ও সংশোধন করার জন্য বকাঝকা করা , গালমন্দ করা বা মারধর করার ক্ষেত্রে অনেকেই রাগের বশে আত্ননিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন এবং বাড়াবাড়ি করে ফেলেন।  যার ফলে একদিকে শাসনের ফায়দা নষ্ট হয়ে যায়, অন্যদিকে পরে নিজের বাড়াবাড়ির জন্যই নিজেকেই লজ্জতি হতে হয়।  এর থেকে বাঁচার উপায় হল তিনটি। যথা:- (এক) ঠিক রাগের মুহূর্তে কিছুই বলবে না বা কিছুই করবে না।  (দুই) কি কি শব্দ বলে তাকে গালমন্দ করতে হবে কিংবা কিভাবে কোন স্থানে কতটুকু প্রহার করবে তা আগে চিন্তা করে স্থির করে নিবে। 
(তিন) গালমন্দ বা প্রহার করার পূর্বে চিন্তা করে নিবে যে, পরে আবার তার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে কত কিছু করা হবে, তখন যেন শরম পেতে না হয়।  এ তিনটি  পন্থা গ্রহণ করলে  শাসনের ক্ষেত্রে  বাড়াবাড়ি থেকে বাঁচে থাকা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। 

* স্ত্রীকে শাসনের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে স্বামী শাসক আর স্ত্রী শাসিত নয়।  স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শাসক শাসিতের সম্পর্ক।  নয় বরং তাদের মধ্যে সম্পর্ক হল ভালবাসার সম্পর্ক, প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক।  অতএব কোনো শাসনই যেন ভালবাসার চেতনা বাদ দিয়ে নিছক রাগ ও ক্ষোভ চরিতার্থ  করার জন্য না হয়।  


0 comments: