কয়েকটা বদ অভ্যাস ও পাপ এবং তা বর্জনের উপায় । (2)

যেন থেকে বেঁচে থাকার জন্য যা যা করতে হবে তা হল:-
১। যেনার উপসর্গ যেমন:- প্রেমালাপ , গোপন যোগাযোগ , গায়র মাহরামের সঙ্গে নির্জন বাস, পর্দা লংঘন ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা।
২।  যেনার কারণে জাহান্নামের যে কঠিন শাস্তি হবে তা স্মরণ করা। (হস্তমৈথুন)
৩। একথা স্মরণ করা যে আল্লাহ সবকিছুই দেখেন , আমার এ অবস্থাও তিনি দেখবেন এবং কোনো মানুষ এখন না দেখলেও কিয়ামতের ময়দানে সকলের সামনে এটা প্রকাশ করে দেয়া হবে।  তখন শরমের অন্ত থাকবে না।  (হস্তমৈথুন)
৪।  বিয়ে না করে থাকলে বিয়ে করে নেয়া , না পারলে রোযা রাখা। আর স্ত্রী থাকার পরও কোন নারীর প্রতি খাহেশ হলে এই চিন্তা  করা যে তার যা আছে আমার স্ত্রীরও তো তা  আছে, তাহলে অহেতুক কেন তার প্রতি ঝুঁকতে হবে ?
৫।  যে নারীর সাথে যেনার কামনা জাগে বা যে পরিবেশে যেনার সুযোগ সৃষ্টি হয় সেখান থেকে দূরে সরে যাওয়া।
৬।  যে নারীর সাথে যেনার কামনা জাগে তার সম্বন্ধে চিন্তা করবে যে, সে অত্যন্ত কুৎসিত, বিশ্রী চেহারার বা কঠিন রোগে আক্রান্ত ইত্যাদি।  এতেও মন থেকে তার সঙ্গে যেনার লিপ্ত হওয়ার চেতনা হ্রাস পাবে।
৭।  যেসব কথা শুনলে, যেখানে গেলে বা যা দেখলে কিংবা যা পড়লে অথবা যা চিন্তা করলে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বা যেনার মনোভাব জাগ্রত হয় তা থেকে বিরত থাকা।  (হস্তমৈথুন)


হস্তমৈথুন:- 
হস্তমৈথুন করা মহাপাপ।  এ থেকে পরিত্রানের জন্য পূর্বের পরিচ্ছেদে ২,৩ ও ৭ নং পন্থা গ্রহণ করতে হবে।  যেসব যুবক এ রোগে আক্রান্ত তারা এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে থাকুন এ নিয়ে আমরা পরে আলোচনা করবো। (ধন্যবাদ)

বালক মৈথুন:- 
বালকের সাথে কুকর্ম করা যেনার চেয়েও বড় পাপ।  এ জন্যই বালকের সাথে কুকর্মকারীর শাস্তি বলা হয়েছে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া।
যেন থেকে বেঁচে থাকে জন্য যেসব পন্থা গ্রহণীয়, বালক মৈথুন থেকে পরিত্রানের জন্যও সেসব পন্থা গ্রহণীয়।

বদ নজর:-
গায়র মাহরাম মহিলার দিকে নজর করা বা শ্নশ্রুবিহীন বালকের দিকে খাহেশাতের দৃষ্টিতে তাকানো হল বদ নজর । বদ নজর দ্বারা কলব অন্ধকার হয়ে যায় , ইবাদতের নূর নষ্ট হয়ে যায়।  এতে নজরের যেনা হয়।  আবার তাকে নিয়ে কোন পাপের চিন্তা করলে মনের যেনা হয়।  অনিচ্ছাকৃত হঠাৎ যে দৃষ্টি পড়ে যায় তাতে কোন পাপ নেই, কিন্তু তারপর ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টিকে দীর্ঘায়িত করলে বা বারবার দেখলে পাপ হবে।  এই বারবার কিংবা দীর্ঘক্ষণ দেখতে চাওয়া মূলত মনের একটা রোগ বিশেষ। 

বদ নজর রোগ থেকে পরিত্রানের উপায় হল:- 
১।  এ চিন্তা করা যে , আল্লাহ আমার মনের অবস্থা দেখছেন এবং কিয়ামতের দিন এ নিয়ে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করবেন , তখন সবার সামনে লজ্জিত হতে হবে এবং এই পাপের দরুন জাহান্নামের আযাব হবে।
২।  এই চিন্তা করবে যে, আমার আপনজনকে কেউ এভাবে দেখলে তো আমার অপছন্দ লাগে, তাহলে আমার দেখাটা কি তাদের অপছন্দনীয় নয় ?
৩। এরপরও তাকে সুন্দর মনে হলে এবং নজর দিতে মনে চাইলে তাকে কুৎসিত কল্পনা করবে।
৪।  হিম্মত এবং এরাদা করা যে, এ থেকে বিরত থাকব। আর হঠাৎ নজর পড়ে গেলে তার থেকে নজর ফিরিয়ে নিলে কলবে নূর পয়দা হয়- এই ফিকের রাখা।

গীবত (ওপরের দোষ চর্চা):-
হেয় করে তোলার উদ্দেশ্যে পশ্চাতে কারও প্রকৃত দোষ-ত্রূটি বর্ণনা করাকে গীবত বলে। আর প্রকৃতপক্ষে সে দোষ তার মধ্যে না থাকলে সেটাকে বলে বুহতান, যা  গীবতের চেয়েও বড় অপরাধ।  জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, পোশাক-পরিচ্ছেদ, শারীরিক গঠন, বংশ ইত্যাদি যেকোনো বিষয়ের দোষ বর্ণনাই গীবতের অন্তর্ভুক্ত।  মুখে বলা দ্বারা যেরূপ গীবত হয় , তেমনি অঙ্গভঙ্গি এবং ইশারা-ইঙ্গিতেও গীবত হয়।  গীবত যেমন জীবিত মানুষের হয় তেমনি মৃত মানুষেরও হয়।  ছোট-বড় , মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের দোষ চর্চাই গীবত।

গীবত করা হারাম ,জেনার চেয়েও গুরুতর কবিরা গোনাহ।  অবশ্য ন্যায্য বিচার প্রার্থনা করতে গিয়ে বিচারকের নিকট প্রতিপক্ষের যে দোষ বর্ণনা করতে হয় , কিংবা কাউকে অপরের দ্বীনি বা দুনিয়াবী ক্ষতি থেকে সাবধান করার উদ্দেশ্যে বা গুরুজনের নিকট অধীনস্থদেরকে শাসন করানোর জন্য যে দোষ-ত্রূটি উল্লেখ করা হয় তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

স্বেচ্ছায় এবং মনোযোগ সহকারে গীবত শ্রবণ করাতেও গীবতের গোনাহ হয়।  কারও গীবত করে ফেললে নিজে এস্তেগফার করা , যার গীবত করা হয়েছে তার জন্য এস্তেগফার করা এবং সম্ভব হলে ও সংগত মনে করলে তার নিকট ওজরখাহী করা উচিত।  এভাবেই গীবতের পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।  কাউকে গীবত করতে শুনলে তাকে বাধা দাও , না পারলে সে মজলিস ত্যাগ কর, না পারলে সে কথা থেকে মনোযোগ হটিয়ে মনে মনে অন্য কিছু ভাবতে বা পড়তে থাকে।

গীবত শোনার পর যে কয়টা কাজ করা উচিত:- 
১।  এ শোনা কথা অন্যের কাছে বর্ণনা না করা।
২।  যারা দোষ শোনা হল তার দোষ খুঁজতে শুরু না করা।
৩।  তার উপর বড়গোমানী না করা।
৪। পারলে গীবতকারীকে এই গীবতের অভ্যাস পরিত্যাগ করার পরামর্শ দেয়া।
৫।  প্রয়োজন মনে করলে আসল ব্যক্তির থেকে জেনে নেয়া যে , ব্যাপারটা কতদূর সত্য।  অবশ্য এ ক্ষেত্রে গীবতকারীর নাম উল্লেখ করা উচিত নয়।

এ সম্পর্কে আরো জানতে আমাদের সাথে থাকুন (ধন্যবাদ)
এই হাদিস টিঃ আহকামে যিন্দেগী বই থেকে নেয়া । 
পেজ নংঃ- ৬৩৫-৬৩৮ পর্যন্ত। 

0 comments: