স্ত্রীর অধিকারসমূহ

স্ত্রীর জন্য স্বামীর করণীয় তথা স্ত্রীর অধিকারসমূহ :
(ক) হালাল মাল দ্বারা স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দেয়া স্বামীর উপর ওয়াজিব। পোষণ বা পোশাকের মধ্যে প্রয়জনের অতিরিক্ত প্রদান করে বা প্রতি ঈদে কিংবা বিবাহ-শাদী ইত্যাদি উপলক্ষে থাকা সত্বেও নতুন পোশাক দেয়া স্বামীর কর্তব্য নয়।  দিলে তার অনুগ্রহ। স্বামীর স্বচ্ছলতা যেরূপ সেই মানের ভরণ-পোষণ কর্তব্য স্ত্রীর হাত খরচের জন্যও  পৃথকভাবে কিছু দেয়া উচিত , যাতে সে তার ছোটখাটো এমনসব প্রয়োজন পূরণ করতে পারে যেগুলো সব সময় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। তবে অবাধ্য হয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে তার ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকার থাকে  না 




(খ) স্বামীর স্বচ্ছলতা থাকলে স্ত্রীর জন্য চাকর-নওকরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। অবশ্য স্বচ্ছলতা না থাকলে তখন স্ত্রীকেই রান্না-বান্না (নিজের জন্য এবং স্বামীর সন্তানাদির জন্যও) ইত্যাদি কাজ করতে হবে এটা তখন তার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। 
আর যদি স্ত্রী অসুস্থ্যতার করণে বা আমীর-উমরা প্রভৃতি বড় ঘরের কন্যা হওয়ার কারণে নিজের করতে সক্ষম না হয় তাহলে স্বামীর দায়িত্ব প্রস্তূত খাবার ক্রয় করে আনা বা অন্য কোনো স্থান থেকে এনে দেয়া বা অন্য কারও মাধ্যমে পাকানোর ব্যবস্থা করা। 

(গ) স্ত্রীর বসবাসের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক ঘর বা অন্তত পৃথক রুম পাওয়া স্ত্রীর অধিকার।  স্ত্রী যদি পৃথক থাকার কথা বলে এবং স্বামীর মাতা-পিতা বা আত্নীয়-স্বজনের সাথে একই ঘরে থাকতে খুশি খুশি রাজি না থাকে , তাহলে তার ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব।  অন্তত একটা পৃথক কামরা তাকে দিতে হবে।  যেখানে সে তার মাল-আসবাব তালাবদ্ব রেখে  হেফাজত করতে পারে এবং স্বাধীনভাবে একান্তে স্বামীর সঙ্গে মনোরঞ্জন করতে পারে। উল্লেখ্য, শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর খেদমত করা স্ত্রীর উপর আইনত ওয়াজিব নয় , করলে তার ছওয়াব আছে।  বরং এ খেদমতের দায়িত্ব তার স্বামীর ; সে নিজে করতে না পারলে লোক দ্বারা করবে। তাও না পারলে এবং একান্ত অনন্যোপায় অবস্থায় স্ত্রীর মাধ্যমে করতে চাইলে তখন স্ত্রীর সেটা  করার দায়িত্ব এসে যায়।  নতুবা স্বাভাবিক অবস্থায় স্ত্রী আন্তরিকভাবে না চাইলেও জবরদস্তী তাকে স্বামীর মাতা-পিতার অধীন করে রাখে , জোর-জবরদস্তি মাতা-পিতার সঙ্গে একান্নভুক্ত রাখা এবং জোর-জবরদস্তি তার দ্বারা মাতা-পিতার খেদমত করানো উচিত নয়। 
এটা স্ত্রীর প্রতি জুলুম। তবে স্ত্রীরও মনে রাখা উচিত যে একান্ত ঠেকা অবস্থা না হলে স্বামীকে তার মাতা-পিতা ও ভাই বোন থেকে পৃথক করে নিয়ে তাদের মনে কষ্ট দেয়াও উচিত নয়। 

(ঘ) স্ত্রীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। 

(ঙ) স্ত্রীর চরিত্রের ব্যাপারে অহেতুক সন্দেহ বা কুধারণা না রাখা।  (আবার একেবারে অসতর্কও  না থাকা উচিত। )

(চ) হায়েয নাফস প্রভৃতির বিধান ও দ্বীনি মাসায়েল শিক্ষা করে স্ত্রীকে তা শিক্ষা দেয়া, নামায রোজা প্রভৃতি ইবাদাত করা ও দ্বীনের উপর চলার জন্য স্ত্রীকে তাগিদ দেয়া এবং বিদআত, রছম প্রভৃতি শরীআতবিরুদ্ব কাজ থেকে তাকে বাধা দেয়া স্বামীর কর্তব্য ।

(ছ)  প্রয়োজন অনুপাতে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা । প্রতি চার মাস  অন্তত একবার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করা স্বামীর উপর ওয়াজিব ।

(জ) স্ত্রীর অনুমতি ব্যাতিত তার সাথে আযল না করা।  (অর্থাৎ, যৌন সঙ্গমকালে যোনির বাইরে বীর্যপাত না করা। )

(ঝ) স্ত্রীর সঙ্গে কৃত যৌন সঙ্গম প্রভৃতি গুপ্ত বিষয় অন্যত্র প্রকাশ না করা এটাও স্ত্রীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। 

(ঞ) পারিবারিক শান্তি-শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে যে ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সংশোধনমূলক কিছুটা প্রহার করার অনুমতি স্বামীকে দেয়া হয়েছে , সে ক্ষেত্রেও স্বামী সীমালংঘন করতে পারবে না।  অর্থাৎ, প্রকাশ্য স্থানে দাগ পড়ে যাবে- এমনভাবে স্ত্রীকে মারতে পারবে না বা প্রচণ্ডভাবেও মারপিট করতে পারবে না। ( এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন ) "ধন্যবাদ"  




(ট) বিনা কারণে স্ত্রীকে তালাক না দেয়া।  স্ত্রীর যেন, মিথ্যা, বাতিল মতবাদ বিশ্বাস , ফাসেকী  প্রভৃতি কারণে তালাক দেয়া হলে স্বামীর অন্যায় হয় না।  
পক্ষান্তরে অবস্থা ব্যাতিত স্ত্রীরও স্বামীর কাছ থেকে তালাক চেয়ে নেয়া অন্যায়।  

(ঠ) স্ত্রীর মনোরঞ্জনের জন্য অন্তত কিছুক্ষন নির্জনে তাকে সময় দেয়া  , তার সঙ্গে হাসি-ফুর্তি করা স্বামীর কর্তব্য।  যাতে স্ত্রীও মনোরঞ্জন করতে পারে, এবং মনের কথা বলতে পারে , সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে পারে এবং একাকিত্বের কষ্ট লাঘব করতে পারে। এরূপ সময় দিতে না পারলে তার সমমনা কোনো নারীকে তার নিকট আসা-যাওয়া বা রাখার ব্যবস্থা করবে।  মোটকথা, ঘরে পর্দার মধ্যে থেকেও যেন স্ত্রী তার মনের খোরাক পায় তার জন্য শরীআতের গণ্ডির মধ্যে থেকে ব্যবস্থা করতে হবে।  

(ড) রাতে স্ত্রীর নিকট শয়ন করাও স্ত্রীর অধিকার। 

(ঢ) স্ত্রীদের নায-নখরা এবং মান-অভিমান করারও অধিকার রয়েছে। 

(ণ) স্ত্রীর ভুল-ত্রূটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা, যতক্ষণ সীমালংঘনের  পর্যায়ে না যায় এবং তার পক্ষ থেকে কষ্ট পেলে ছবর করা এবং নীরব থাকা।  তবে এক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে অর্থাৎ, প্রয়োজনবোধে স্ত্রীকে মোনাছেব মত তম্বীহ করতে হবে।  

(ত) স্ত্রীর সঙ্গে কথা-বার্তা বলা এবং তাকে খুশি রাখাও স্বামীর কর্তব্য এবং এটাও স্ত্রীর অধিকার। 

(থ) মহর স্ত্রীর অধিকার।  স্বামীর উপর মহর প্রদান করা ফরয। স্বামী মহর প্রদান করা ব্যাতিত মৃত্যুবরণ করলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর মহর আদায় করা হবে।  

(দ) স্ত্রীর প্রতি অবিচার না করা। পুরুষ তার কর্তৃত্বসুলভ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনোভাবেই স্ত্রীর প্রতি জুলুম-পবিচার করতে পারবে না।   

(ধ) একাধিক স্ত্রী থাকলে ভরণ-পোষণ , রাত্রি যাপন প্রভৃতি বিষয় তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব।  তবে মনের টান কারও প্রতি কম বেশি থাকলে সেটার জন্য স্বামী দায়ী নয় , কেননা সেটা তার এখতিয়ার বহির্ভুত বিষয়।  

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে , দাম্পত্য জীবনকে শান্তিময় ও সুখময় করে তুলতে হলে শুধু নিজের অধিকার দেখে দায়িত্ব (অর্থাৎ , স্বামীর জন্য তার যা করণীয় তা ) না দেখে, সে ব্যাপারে যত্নবান না হয় , তাহলে সুখ শান্তি আসবে না।  

এই সম্পর্কিত তথ্য পেতে আমাদের সাথে থাকুন " ধন্যবাদ " 
(পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না)

0 comments: