স্বামীর জন্য স্ত্রীর করণীয়

স্বামীর জন্য স্ত্রীর করণীয় তথা স্বামীর অধিকারসমূহ :

✓✓  স্বামীর আনুগত্য ও খেদমত করা স্ত্রীর উপর ওয়াজিব।  আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের পরে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকার সবচেয়ে বেশি।  তবে স্ত্রীর কোনো পাপ কাজে স্বামীর আনুগত্য করবে না।  যেমন- নামাজ না পড়া , যাকাত না দেওয়া , পর্দায় না থাকা বা পিছনের রাস্তায় যৌন সংগম করতে দেয়া।  ইত্যাদির ব্যাপারে স্বামীর হুকুম দিলে তা মান্য করা হারাম হবে।  সেসব ব্যাপারে  স্বামীর বিরোধিতা করা ফরয।  এমনভাবে স্বামীর যেকোন ফরয, ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা লংঘনের ব্যাপারে তথা হারাম বা মাকরূহ তাহরীমী করার ব্যাপারে হুকুম দিলে বা বললে তার বিরোধিতা করতে হবে। 
আর কোনো মোস্তাহাব ও নফল কাজের ব্যাপারে না করার হুকুম দিলে সে ব্যাপারে স্বামীর কথা মেনে চলা ওয়াজিব।  স্ত্রী এমন কোনো মোবাহ কাজে লিপ্ত হতে পারবে না যাতে স্বামীর খেদমতের ব্যাপারে ত্রূটি হয়।  স্বামীর যে হুকুম না মানলে স্বামীর কষ্ট হবে- এরূপ হুকুম মানতে হবে (যদি সেটা পেপার হুকুম না হয় ) । স্বামীর কাছে থাকা অবস্থায় নফল নামায ও নফল রোযা স্বামীর অনুমতি ব্যতীত করবে না, তবে স্বামী সফরে বা বাইরে থাকলে তার অনুমতি ব্যাতিত করায়ও ক্ষতি নেই। 



✓✓  স্বামীর নিকট তার সাধ্যের বাইরে কোনো খাবার বা পোশাক- পরিচ্ছেদের আবদার করবে না।  বরং স্বামীর সাধ্যে সামর্থ থাকলেও নিজের থেকে কোন কিছুর ফরমায়েশ না করাই উত্তম।  স্বামীর নিজের থেকেই তার খাহেশ জিজ্ঞাসা করে সে মোতাবেক ব্যবস্থা করবে- এটাই সুন্দর পন্থা। 

✓✓  স্বামী অপছন্দ করে- এরূপ কোনো পুরুষ বা নারীকে স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত ঘরে আসতে দিবে না, নিজের নিকট আনবে না এবং নিজের কাছে রাখবে না। 

✓✓   স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত বাড়ি বা ঘর থেকে বের হবে না। 

✓✓  স্বামী যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য আহবান করলে স্ত্রীর পক্ষে তাতে সাড়া দেয়া কর্তব্য, ফরয। অবশ্য শরীআতসম্মত ওজর থাকলে ভিন্ন কথা; যেমন- হায়েয নেফাসের অবস্থা থাকলে।

✓✓  স্বামী অস্বচ্ছল, দরিদ্র বা কুৎসিত হলে তাকে তুচ্ছ না জানা। 

✓✓  স্বামীর মধ্যে শরীআতের খেলাফ কোন কিছু দেখলে আদবের সাথে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করা এবং স্বামীকে দ্বীনদার বানানোর চেষ্টা চালানো স্ত্রীর কর্তব্য।  এর জন্য প্রথমে স্ত্রীকে শরীআতের অনুগত ও দ্বীনদার হতে হবে, তাহলে তার প্রচেষ্টা বেশি সফল হবে। 

✓✓  স্বামীর নাম ধরে না ডাকা।  এটা বে-আদবী। তবে প্রয়োজনের সময় স্বামীর নাম মুখে উচ্চারণ করা যায়। 
✓✓  কারও সম্মুখে স্বামীর সমালোচনা না করা।

✓✓  স্বামীর আপনজন ও আত্নীয়-স্বজনের সাথে ঝগড়া-বিবাদ ও কথা কাটাকাটি না করা সকলের সাথে মিলে মিশে থাকার চেষ্টা করা। 
✓✓  স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজে-গুঁজে পরিপাটি হয়ে থাকা কর্তব্য, হাসি-খুশি থাকা কর্তব্য। এটা স্বামীর অধিকার। 
✓✓  স্বামীর মজায ও মানসিক অবস্থা বুঝা চলা জরুরি।

✓✓  স্বামীর সফর থেকে এলে বা বাইরে থেকে কর্মক্লান্ত হয়ে এল তার তৎক্ষণিক যত্ন নেয়া, সুবিধা-অসুবিধা দেখা ও খোঁজ-খবর নেয়া জরুরি। শুধু সফর থেকে ফিরলেই নয় সর্বদাই স্বামীর স্বাস্থ্য-শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা ও যত্ন দেয়া স্ত্রীর দায়িত্ব।

✓✓  স্বামীর ঘরের রান্না বান্না করা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি আইনগতভাবে স্ত্রীর দায়িত্ব নয়, তবে এটা তার কর্তব্য।  অবশ্য স্বামীর স্বচ্ছলতা থাকলে এর জন্য স্ত্রীর চাকর-নওকর চেয়ে নেয়ার অধিকার রাখে।  স্ত্রী চাকর-নওকরের কাজ তত্ত্বাবধান করবে এবং নিজেও তাদের সাথে কাজ করবে। এমনভাবে স্বামীর কোন আত্নীয়-স্বজন বা শ্বশুর-শাশুড়ীর খেদমত করাও স্ত্রীর আইনগত দায়িত্ব নয় , তবে  নৈতিক কর্তব্য। প্রয়োজনে এর জন্য স্বামী নিজে না পারলে চাকর-নওকর নিয়োগ করবে। 
অবশ্য স্বামী যদি অস্বচ্ছল হয় এবং নিজেও ঘরের মা-বাবা আপনজনের এসব কাজের জন্য হুকুম দেয়, এমতাবস্থায় স্বামীর সে হুকুম না মানলে স্বামীর কষ্ট হবে বিধায় তখন স্ত্রীর পক্ষে সে হুকুম মান্য করা কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।  ঘরের কাজ করার মধ্যে স্ত্রী সম্মান নিহিত রয়েছে , অসম্মান নয় এবং এর জন্য স্ত্রী ছওয়াবও লাভ করবে- স্ত্রী এসব কথা মনে রাখলেই এভাবে চলা তার জন্য সহজ লাগবে। 
✓✓  স্বামীর না-শুকরি করবে না। যেমন- কোন এক সময় তার আনীত কোনো দ্রব্য অপছন্দ হলে এরূপ বলবে না যে কোনো দিন তুমি একটা পছন্দসই জিনিস দিলে না .... ইত্যাদি ।

✓✓ স্বামীর আদব-এহতেরাম এ সম্মান রক্ষা করে চলা। চড়া গলায় ঝাঁঝালো স্বরে স্বামীর সাথে কথা  না বলা , তাকে শক্ত কথা না বলা। . স্বামীর কখনও স্ত্রীর হাত পা দাবিয়ে দিতে গেলে স্ত্রী সেটা করতে দিবে না। ভেবে দেখুন তো পিত-মাতা বা যাদের সাথে আদব রক্ষা করে চলতে হয় তারা এরূপ করতে চাইলে তখন কিরূপ করা হয়। মোটকথা , কথা-বার্তায়, উঠা-বসায়, আচার-আচরণে সর্বদা স্বামীর আদব রক্ষা করে চলা কর্তব্য। ভালবাসা ও আদব উভয়টার সমন্বয় করে চলা কর্তব্য।  
✓✓ সন্তানাদি লালন-পালন করা।  এটা স্ত্রীর দায়িত্ব। সন্তানকে দুধ পান করানো স্ত্রীর উপর ওয়াজিব। 
✓✓  সতীত্ব রক্ষা করা : স্ত্রীর সতীত্ব স্বামীর সম্পদ, অতএব সতীত্ব রক্ষা না করলে সতীত্বহীনতার অপরাধ তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে রয়েছে স্বামীর অধিকার লংঘনের অপরাধ। 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ দাম্পত্য জীবনকে শান্তিময় ও সুখময় করে তুলতে হলে 
শুধু নিজের অধিকারই দেখলে হয় না।  নিজের দায়িত্বও দেখতে হয়।  অতএব স্বামী যদি শুধু তার অধিকার দেখে দায়িত্ব  (অর্থাৎ , স্ত্রীর জন্য তা যা করণীয় তা ) না দেখে , সে ব্যাপারে যত্নবান না হল, তাহলে সুখ শান্তি আসবে না।  

0 comments: