দুআ/মুনাজাতের আদব ও আমলসমূহ

(ক ) দুআ কবুল হওয়ার জন্য সর্বক্ষণ যা যা করণীয় :

* খাদ্য, পানি, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আয়-উপার্জন হালাল হওয়া।   
* পিত-মাতার নাফরমানি থেকে বিরত থাকা। 
* আমর বিল' মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করা তথা ভাল কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজ       থেকে     বারণ করা। 
* আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা।  
* কোনো মুসলমানের সাথে অন্যায়ভাবে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ না রাখা।  
* গীবত না করা।  গীবতকারী ব্যক্তির দুআ কবুল হয় না।  
* হাছাদ বা হিংসা না করা।  হিংসুকের দুআ কবুল হয় না।  
* বখীলী বা কৃপণতা না করা।  কৃপণ ব্যক্তির দুআ কবুল হয় না। 
* দুআ কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করা।  
* হৃদয় মরে গেলে দুআ কবুল হয় না।  উল্লেখ্য, যিকির না করলে, বেশি হাসলে , বেশি কথা           বললে হৃদয় মরে যায়। 



(খ) দুআ সময় বসার আদব :

* কেবলামুখী হয়ে বসা।  
* হাটু গেড়ে বসা। 
* আদব , তাওয়াযু ও বিনয়ের সাথে বসা। 
* পাক- সাফ হয়ে বসা।  
* উযু সহকারে বসা। 
* দুআর সময় আসমানের দিকে নজর না উঠানো। 

(গ) দুআর সময় হাত উঠানোর নিয়মাবলী :

* সীনা বা কাঁধ বরাবর হাত উঠানো।
* উভয় হাতের তালু আসমানের দিকে  রাখা মোস্তাহাব 
* উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ কেবলামুখী রাখা মোস্তাহাব 
* উভয় হাতের মাঝখানে সামান্য পরিমাণ ফাঁকা রাখা মোস্তাহাব।  
* উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে নয় বরং সামান্য ফাঁকা রাখা মোস্তাহাব।  
* দুআ শেষপূর্বক বরকতের জন্য মুখে হাত বুলিয়ে নেয়া।  

(ঘ) দুআ শুরু এবং শেষে করার বাক্যসমূহ :

* দুআর শুরু এবং শেষে আল্লাহর হাম্দ ও ছানা (প্রশংসা)
   বয়ান করা।  
* দুআর শুরু এবং শেষে দুরূদ ও সালাম পড়া।  
* "আমিন" বলে দুআ শেষ করা।  

(ঙ) দুআর সময় মনের অবস্থা যেরকম রাখতে হয় :

* এখলাসের সাথে খালেস মনে দুআ করা অর্থাৎ , আল্লাহ ব্যাতীত কেউ তার উদ্দেশ্য  পূর্ণ করতে     পারে না - এই মনোভাব বদ্বমূল রাখা।  
* দ্ব্যর্থহীন মনোভাব নিয়ে দুআ করা।  
* আগ্রহ এবং অনুপ্রাণিত মনে দুআ করা।  
* যথাসম্ভব মনোভাব নিয়ে দুআ করা।  
* না-ছোড় মনোভাব নিয়ে দুআ করা।  
* দুআ কবুল হওয়ার দৃঢ় আশা রাখা।  



 (চ) চাওয়ার আদবসমূহ : 

* আল্লাহর আছমায়ে হুছনা (উত্তম নামসমূহ) ও মহান গুণাবলী উল্লেখপূর্বক চাইতে হয়। 
* প্রথমে নিজের জন্য, তারপর মাতা-পিতা ও অন্যান্য মুসলমান ভাইদের জন্য চাওয়া।  ইমাম         হলে জামাআতের সকলের জন্য চাইবেন।  
* বরাবর চাওয়া ; অন্তত তিন বার। একই মজলিসে তিন বার বা  তিন মজলিসে তিন বারে।  তবে     তিন বার  চাওয়ার এই নিয়ম একাকী দুআ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।  
* নিম্নস্বরে চাওয়া।  তবে মজলিসের লোকদেরকে শোনানোর প্রয়োজনে জোর আওয়াজে দুআ        করা যায়। কিন্তু যদি কোন নামাযী ব্যক্তির নামাযে ব্যাঘাত ঘটে , তাহলে তখন জোর আওয়াজে দুআ করা নিষিদ্ব।  
* কোন নেক কাজের উল্লেখ পূর্বক দুআ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন প্রার্থনা করা।  যেমন : হে আল্লাহ ! এই তিলাওয়াত , কিংবা দান-সদকার ওছিলায় আমাদের দুআ কবুল করুন।
* আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং অন্যান্য নেককার ও বুযুর্গদের ওছিলায় দুআ কবুল হওয়ার প্রার্থনা করা।  
(ছ) দুআর বিষয়বস্তূ বিষয়ক আদবসমূহ :

* আখেরাত ও দুনিয়া উভয় জগতের প্ৰয়োজনসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে দুআ করা।  
* কোন পেপার বিষয় না চাওয়া।  
* এমন বিষয় প্রার্থনা না করা , যায় সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে ; (যেমন: নারী দুআ করবে না যেন সে      পুরুষ হয়ে যায় , কিংবা বেটে মানুষ লম্বা হওয়ার বা কাল মানুষ ফর্সা হওয়ার দুআ করবে না ,      ইত্যাদি। )
* কোনো অসম্ভব বিষয়ের দুআ না করা।  
* নিজের মুখাপেক্ষিতা, প্রয়োজন ও অক্ষমতার বিষয় উল্লেখ করা।  
   (জ) দুআর ভাষা বিষয়ক আদবসমূহ :
* হযরত রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত বা কুরআনে বর্ণিত ভাষায় দুআ করা।  
* কথার ছন্দ মিলানোর জন্য কসরত না করা।  
* কবিতার মাধ্যমে দুআ করলে গানের ভঙ্গি থেকে বিরত থাকা।

0 comments: