মসজিদে যাওয়ার সুন্নাত ও আদবসমূহ

০১। শরীর পবিত্র করে নিবে ।
০২। কাপড় পবিত্র করে নিবে ।
০৩। ঘর থেকে উযূ করে মসজিদে যাবে । মসজিদে যেয়ে উযূ করার চেয়ে ঘর থেকে উযূ করে যাওয়া উত্তম ।
০৪। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিসমিল্লাহ ও বের হওয়ার দুয়া পড়বে ।
০৫। ধীরস্থিরভাবে চলবে ।
০৬। গাম্ভীর্যের সাথে চলবে ।
০৭। চলার পথে হাসি-তামাশা , ক্রীড়া-কৌতুক ও অহেতুক কাজ থেকে বিরত থাকবে ।
০৮। প্রত্যেকটা কদমে কদমে ছওয়াব হবে – এই বিশ্বাস ও আশা মনে বদ্বমূল রেখে পথ চলবে ।
০৯ পথ চলার অন্যান্য আমল পালন করবে । যেমনঃ-
       * বড় রাস্তা হলে ডান দিক দিয়ে চলবে ।
       * দৃষ্টি নত করে চলবে ।
       * কিছুটা  সম্মুখপানে ঝুকে চলবে । (নবী কারীম (সা.) এরূপ চলতেন )
         হাত পা ছুড়ে ছুড়ে অহংকারের সাথে চলবে না ।
       * রাস্তা অতিক্রম করার সময় যথাসম্ভব দ্রুত চলবে ।
       * নারীদের জন্য রাস্তার কিনারা ছেড়ে  দিবে ।
       * পথে কষ্টদায়ক কিছু পেলে তা সরিয়ে দিবে ।
       * উপর দিকে উঠার সময় ডান পাঁ আগে বাড়ানো এবং “আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নাত ।
       * নিচের দিকে নামার সময় বাম পাঁ আগে বাড়ানো এবং “সুবহানাল্লাহ” বলা সুন্নাত ।
       * সমতল স্থান দিয়ে চলার সময় “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা সুন্নাত । (ইত্যাদি)



মসজিদে প্রবেশের সুন্নাত ও আদবসমূহঃ

০১। নত চোখে, ভীত মনে মসজিদে প্রবেশ করবে ।
০২। মসজিদে প্রবেশের পূর্বে জুতো খুলে নিবে । জুতো ভিতরে নিতে হলে ঝেড়ে পরিস্কার পূর্বক নিবে ।
০৩। প্রথমে বাম পায়ের জুতো তারপর ডান পায়ের জুতো খুলবে ।
০৪। প্রবেশের পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়বে ।
০৫। দুরূদ ও সালাম পড়বে ।
০৬। দুআ পড়বে ।

মসজিদের ভিতরের সুন্নাত ও আদবসমূহঃ

০১। মসজিদে প্রবেশ করতঃ (নফল) এ’তেকাফের নিয়ত করবে ।
০২। যে বাঁ যারা নামাযে রত নয় তাদেরকে এমনভাবে সালাম দিবে যেন নামাযে রত লোকেদের নামাযে ব্যাঘাত না ঘটে ।
০৩। মসজিদে বেচা-কেনা না করা ।
০৪। কোন হারানো বস্তু তালাশের উদ্দেশ্যে মসজিদে ঘোষণা না দেয়া।
০৫ আল্লাহর যিকির ব্যতীত আওয়াজ উচু না করা ।
০৬। কোনো শোরগোল না করা ।
০৭। তলোয়ার বাঁ ভীতিমূলক কিছু উন্মুক্ত না রাখা ।
০৮। মসজিদে দুনিয়াবী কথা-বার্তা না বলা ।
০৯। মসজিদে রাজনৈতিক মিটিং-সিটিং করা মসজিদের আদব এহতেরামের খেলাপ ।
১০। মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়ে না যাওয়া ।
১১। মসজিদে কোন স্থান দখল নিয়ে ঝগড়া না করা ।
১২। কেউ কোন স্থান থেকে প্রয়োজনে উঠে গিয়ে থাকলে এবং আবার সেখানে আসবে বুঝতে পারলে তার স্থান দখল না করা ।
১৩। কাতারের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে কারও উপর চাপ সৃষ্টি না করা ।
১৪। নামাযরত ব্যাক্তির সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম না করা । (নামাযীর সোজা সামনে কেউ বসা থাকলে তিনি একদিকে সরে যেতে পারেন)
 ১৫। মসজিদে কফ,থুথু, শিকনি না ফেলা বাঁ কোনোভাবে  ময়লা-আবর্জনা কিংবা নাপাকী না ফেলা ।
১৬। মসজিদে আঙ্গুল না ফোটানো ।
১৭। মসজিদে বায়ু ত্যাগ না করা উত্তম, প্রয়োজন  হলে বাইরে এসে বায়ু ত্যাগ করবে ।
১৮। শিশু এবং পাগলদেরকে মসজিদে না আনা।
১৯। মসজিদের মধ্যে যেনা, চুরি, হত্যা ইত্যাদির হদ্দ বাঁ শাস্তি না দেয়া ।
২০। মসজিদে কিছু কুরআন, হাদিস, ফেকাহ ইত্যাদি দ্বীনী ইল্‌মের তা’লীম করা উত্তম ।

বিঃ দ্রঃ যে শিশু এবং পাগল দ্বারা মসজিদ নাপাক হওয়ার প্রবল ধারণা থাকে তাদেরকে মসজিদে নেয়া মাকরূহ তাহ্‌রীমী । এরূপ ধারনা না হলেও মাকরূহ তানযীহী ।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত ও আদবসমূহঃ

০১। মসজিদ থেকে বের হওয়ার দুয়া পড়বে । 
০২। বিসমিল্লাহ পড়বে ।
০৩। দুরূদ ও সালাম পড়বে ।
০৪। বাম পাঁ আগে বের করবে ।
০৫। তারপর ডান পাঁ বের করবে ।
০৬। ডান পায়ে আগে জুতো পরবে ।
০৭। তারপর বাম পায়ে জুতো পরবে ।


বিঃ দ্রঃ মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাসায়েল জানার জন্য আমাদের সাথে থাকুন "ধন্যবাদ" ।

শেয়ার করতে ভুলবেন না ।
এই হাদিস টিঃ "আহকামে যিন্দেগী" বই থেকে নেয়া । 
পেজ নং : ১৮০-১৮৪ ।

0 comments: