কোরআন তেলাওয়াত যে কোন নফল এবাদত হইতে শ্রেষ্ঠ

হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, হুজুরে পাক  (সাঃ) এরশাদ করেন , নামাজের ভিতর কোরআন তেলাওয়াত করা নামাজের বাহিরে পড়ার চেয়ে উত্তম আর নামাজের বাহিরে কোরআন পড়া তাছবীহ এবং তাকবীর পড়ার চেয়ে উত্তম, আর তাছবীহ পাঠ করা ছদকা হইতে উত্তম, আর ছদকা করা রোজা হইতে উত্তম আর রোজা দোজখ হইতে বাচিবার ঢালস্বরূপ । -(বায়হাকী)

তেলাওয়াত যে কোন জিকির হইতে শ্রেষ্ঠ ইহাতে কোন সন্দেহ নাই । কারন-প্রথমেই বর্ণিত হইইয়াছে , আল্লাহ্‌র কালাম অন্যান্য কালামের উপর এত অধিক ফজিলত রাখে যেমন স্বয়ং আল্লাহ্‌র ফজিলত সমস্ত মাখলুকের উপর । জিকির ছদকা হইতে উত্তম, অন্য রেওয়ায়েতেও উহার সমর্থন পাওয়া যায় । তবে ছদকে রোজা হইতে শ্রেষ্ঠ এই ব্যাপারে মতভেদ আছে । হ্যাঁ মনে রাখতে হইবে ছদকা ও রোজা তারতম্য অবস্থাভেদে হইয়া থাকে । 
অর্থাৎ কাহারও জন্য ছদকা খয়রাত উত্তম আবার কাহারও জন্য রোজা রাখা উত্তম ঠিক যেমন কোন অবস্থায় রোজা শ্রেষ্ঠ। অবশেষে বুঝা গেল, সর্বনিম্ন আমল রোজা যখন জাহান্নাম হইতে বাঁচিবার ঢাল স্বরূপ তখন তেলাওয়াত যে সর্বোচ্চ আমল উহার ফজীলত কি হইতে পারে তাহা সহজেই অনুমান করা যায় । হযরত আলী (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, যে নামাজের মধ্যে দন্ডায়মান অবস্থায় কোরআন পাঠ করিবে প্রতি হরফে সে একশত নেকী প্রাপ্ত হইবে । আর বসিয়া নামাজের মধ্যে পড়িলে পঞ্চাশটি করিয়া নেকি পাইবে । নামাজের বাহিরে অজুর সহিত পড়িলে পঁচিশ টি ও বিনা অজুতে পড়িলে দশ টি নেকি করিয়া পাইবে । এবং যাহারা না পড়িয়া মনোযোগ সহকারে শুনিয়া থাকিবে তাহারাও প্রতি হরফে একটি করিয়া নেকী পাইতে থাকিবে ।

এই হাদিস টিঃ ফাজায়েলে কোরআন থেকে  নেওয়া। 
পেজ নং : ১৫৫ ।

0 comments: