কোরআন পড়ার এবং শুনার ভিন্ন ভিন্ন ফজীলত


হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন , হুজুরে পক (সঃ) এরশাদ করিয়েছেন , যে ব্যক্তি কোরআন শরীফের একটি আয়াত মনোযোগ সহকারে শুনিবে তাহার জন্য দ্বিগুণ ছওয়াব লেখা হইবে । আর যে ব্যক্তি স্বয়ং তেলাওয়াত করিবে কেয়ামতের দিন তাহার জন্য নূর হইবে।            -(আহমদ)


রেওয়ায়েত অনুসারে এই হাদীসে যদিও কিছুটা দূর্বলতা আছে কিন্তু অন্য অনেক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হইয়াছে যে , কোরআন শরীফ শুনলেও যথেষ্ট পূণ্য পাওয়া যায় । এমনকি বহুলোক উহাকে পড়ার চেয়েও উত্তম বলিয়াছে । ইবনে মাছউদ (রাঃ) বলেন , একদিন হুজুর (সাঃ) মিম্বারে বসিয়া এরশাদ করেন, আমাকে কালেমা পাক শুনাও । আমি বলিলাম, হুজুর পাক (সাঃ) এর উপর কালামুল্লাহ অবতীর্ণ হইয়াছে, আমি হুজুর (সাঃ) কে কী শুনাইব ? এরশাদ হইল শুনিতে আমার মন চায় । তখন আমি পড়িতে আরম্ভ করিলাম, ওদিকে হুজুর (সাঃ) এর চক্ষু হইতে অশ্রু বহিতে লাগিল । একদিন হযরত ছালেম (রাঃ) তেলাওয়াত করিতেছিলেন, আর হুজুরে পাক (সাঃ) বহুক্ষণ পর্যন্ত দাড়াইয়া শুনিতেছিলেন । হযরত আবু মূছা আশআরী (রাঃ) এর কেরাত শুনিয়া হুজুর (সাঃ) অনেক প্রশংসা করিয়া ছিলেন ।
এই হাদিস টিঃ ফাজায়েলে কোরআন থেকে  নেওয়া। 
পেজ নং : ১৭৩ ।

কোরআন বিহীন অন্তর শূন্য ঘরের মত 

হরযত ইবনে আব্বাছ (রাঃ) বলেন হুজুর (সঃ) এরশাদ করেন, যাহার অন্তর কোরআনের কোন শিক্ষা নাই উহা বিরান ঘর সমতুল্য ।                        –(তিরমিজি)



বিরান ঘরের সহিত তুলনার অর্থ এই যে, জনমানবহীন শূন্য ঘরে যতসব ভূত পেত্নী আশ্রয় লয় । তদ্রুপ কোরআন বিহীন অন্তরকেও শয়তান দখল করিয়া লয় । 

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, যে ঘরে কোরআন তেলাওয়াত করা হয় সেই ঘরের ছেলে মেয়ের মধ্যে বরকত দেখা দেয় ও অন্যথায় ফেরেশতা অবতরণ করেন এবং সেই ঘর হইতে শয়তান দূরে সরিয়া যায় । পক্ষান্তরে যেই ঘরে তেলাওয়াত হয় না সেই ঘর হইতে ফেরেশতা চলিয়া যায় এবং উহাতে শয়তান ঢুকিয়া পড়ে । অন্য হাদীছে আছে শূন্য ঘর উহাকে বলে যেখানে কোরআন তেলাওয়াত হয় না।



এই হাদিস টিঃ ফাজায়েলে কোরআন থেকে  নেওয়া। 
পেজ নং : ১৫৪ ।

0 comments: