শবে বরাত কী? এবং তা কেনো বিদাআত?

শবে বরাত কথাটি ফার্সী । এর আরবী হল লাইলাতুল বারাআত। ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি এবং ‘শব’ বা লাইলাত শব্দের অর্থ রাত । অতএব ‘শবে বরাত- এর অর্থ মুক্তির রাত । যেমন কুরআন মাজীদে সূরা বারায়াত রয়েছে যা সূরা তাওবা নামেও পরিচিত। ইরশাদ হয়েছে :
بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ (التوبة: ১)
অর্থ : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা। (সূরা তাওবা, ১)
এখানে বারায়াতের অর্থ হল সম্পর্ক ছিন্ন করা। 'বারায়াত' মুক্তি অর্থেও আল-কুরআনে এসেছে যেমন :
أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌ مِنْ أُولَئِكُمْ أَمْ لَكُمْ بَرَاءَةٌ فِي الزُّبُرِ . (سورة القمر :৪৩)
অর্থ : তোমাদের মধ্যকার কাফিররা কি তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ? না কি তোমাদের মুক্তির সনদ রয়েছে কিতাবসমূহে? (সূরা কামার, ৩৪)
আর 'বারায়াত' শব্দক যদি ফারসী শব্দ ধরা হয় তাহলে উহার অর্থ হবে সৌভাগ্য। অতএব শবে বরাত শব্দটার অর্থ দাড়ায় মুক্তির রজনী, সম্পর্ক ছিন্ন করার রজনী। অথবা সৌভাগ্যের রাত, যদি 'বরাত' শব্দটিকে ফার্সী শব্দ ধরা হয়।
শবে বরাত শব্দটাকে যদি আরবীতে তর্জমা করতে চান তাহলে বলতে হবে 'লাইলাতুল বারায়াত'। এখানে বলে রাখা ভাল যে এমন অনেক শব্দ আছে যার রূপ বা উচ্চারণ আরবী ও ফারসী ভাষায় একই রকম, কিন্তু অর্থ ভিন্ন।
শবে বরাত সম্পর্কিত প্রচলিত ভ্রান্ত বিশ্বাস ও আমলঃ
শবে বরাত যারা পালন করেন তারা শবে বরাত সম্পর্কে যে সকল ধারণা পোষণ করেন ও উহাকে উপলক্ষ করে যে সকল কাজ করে থাকেন তার কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
১। তারা বিশ্বাস করে যে, শবে বরাতে আল্লাহ তা'আলা সকল প্রাণীর এক বছরের খাওয়া দাওয়া বরাদ্দ করে থাকেন। অর্থাৎ এই রাতে রিজিক লিল্পবদ্ধ করা হয়।
২। এই বছর যারা মারা যাবে ও যারা জন্ম নিবে তাদের তালিকা তৈরী করা হয়।
৩। এ রাতে বান্দার পাপ ক্ষমা করা হয়।
৪। এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগী করলে সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
৫। এ রাতে কুরআন মাজীদ লাওহে মাহফুজ হতে প্রথম আকাশে নাযিল করা হয়েছে।
৬। এ রাতে গোসল করাকে সওয়াবের কাজ মনে করা হয়।
৭। মৃত ব্যক্তিদের রূহ এ রাতে দুনিয়ায় তাদের সাবেক গৃহে আসে।
৮। এ রাতে হালুয়া রুটি তৈরী করে নিজেরা খায় ও অন্যকে দেয়া হয়।
৯। বাড়ীতে বাড়ীতে এমনকি মসজিদে মসজিদেও মীলাদ পড়া হয়।
১০। আতশবাযী করা হয়।
১১। সরকারী- বেসরকারী ভবনে আলোক সজ্জা করা হয়।
১২। সরকারী ছুটি পালিত হয়।
১৩। পরের দিন সিয়াম (রোযা) পালন করা হয়।
১৪। কবরস্থানগুলো আগরবাতি ও মোমবাতি দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
১৫। লোকজন দলে দলে কবরস্থানে যায়।
১৬। মাগরিবের পর থেকে মাসজিদগুলি লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
১৭। যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ও জুমু'আয় মাসজিদে আসেনা তারাও এ রাতে মাসজিদে আসে।
১৮। মাসজিদগুলিতে মাইক চালু করে ওয়াজ নাসীহাত করা হয়।
১৯। শেষ রাতে সমবেত হয়ে দু'আ-মুনাজাত করা হয়।
২০। বহু লোক এ রাতে ঘুমানোকে অন্যায় মনে করে থাকে।
২১। সারা রাত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে একশত রাকাত, হাজার রাকাত ইত্যাদি সালাত আদায় করা হয়, 
২২। কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। ইত্যাদি।
লোকজন ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করে 'হুজুর! শবে বরাতের সালাতের নিয়ম ও নিয়্যতটা একটু বলে দিন।' ইমাম সাহেব আরবী ও বাংলায় নিয়্যাত বলে দেন। কিভাবে সালাত আদায় করবে, কোন্‌ রাকা'আতে কোন্‌ সূরা তিলাওয়াত করবে তাও বলে দিতে কৃপণতা করেননা।
যদি এ রাতে ইমাম সাহেব বা মুয়াজ্জিন সাহেব মাসজিদে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাদের চাকুরী যাওয়ার উপক্রম হয়।
এই প্রচলিত আমল গুলোর মধ্যে কিছু কিছু আমল ভাল তবে ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারনে ঐ আমল গুলো বিদাতে পরিনত হয়েছে। যেমন সারা রাত সালাত আদায় করা একটি ভাল কাজ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই ভাল কাজটি শুধু ঐ রাতে কেন? অন্য কোন সাধারন রাতে কেন করা হবে না?

আকিদা ও আমলের স্থান, কাল, পাত্রভেদে পার্থক্যঃ
শবে বরাত সম্পর্কে উপরোল্লিখিত কাজ ও আকীদাহসমূহ শবে বরাত উদযাপনকারীরা সকলেই করেন তা কিন্তু নয়। কেহ আছেন উল্লিখিত সকল কাজের সাথে একমত পোষণ করেন। আবার কেহ কিছু কিছু কাজের সাথে একমত পোষণ করেন। যেমন কেউ কেউ আতশবাযী, আলোক সজ্জা পছন্দ করেন না, কিন্তু কবরস্থানে যাওয়া, হালুয়া-রুটি, ইবাদাত-বন্দেগী করে থাকেন। আবার অনেক আছেন যারা এ রাতে শুধু সালাত আদায় করেন ও পরের দিন সিয়াম (রোযা) পালন করেন। এ ছাড়া অন্য কোন আমল করেন না। আবার অঞ্চল ভেদে 'আমলের পার্থক্য দেখা যায়।
আবার বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন কেউ কেউ ঐ রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এটা বিশ্বাস করেন না কিন্তু এ রাতে আল্লাহ তা'আলা সকল প্রাণীর এক বছরের খাওয়া দাওয়া বরাদ্দ করে থাকেন। অর্থাৎ এই রাতে রিজিক লিল্পবদ্ধ করা হয় এটা বিশ্বাস করে।

আল-কুরআনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ নেইঃ 
শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুজে পাবেন না। সত্য কথাটাকে সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় পবিত্র কুরআন মাজীদে শবে বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই।
অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব আলোচনা করতে যেয়ে সূরা "দুখান" এর প্রথম চারটি আয়াত প্রমান হিসেবে দেখান। আয়াতসমূহ হল :

حم ﴿১﴾ وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ ﴿২﴾ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ ﴿৩﴾ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ﴿৪﴾ (الدخان: ১-৪)

অর্থ : হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪)
শবে বরাত পন্থী আলেম উলামারা এখানে বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন বড় ভুল করেন যা আল্লাহর কালাম বিকৃত করার মত অপরাধ। কারণ :

১. কুরআন মাজীদের এ আয়াতের তাফসীর বা ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়। সেই সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿১﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿২﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿৩﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ﴿৪﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿৫﴾

অর্থ : আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা (ফেরেশ্‌তাগণ) ও রূহ (জিবরাঈল আঃ) অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কাদর, ১-৫)

অতএব বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল বরাত নয়। সূরা দুখানের প্রথম সাত আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর। আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুরআনের এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।

২. সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকার অর্থ যদি শবে বরাত হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ দাড়ায় আল কুরআন শাবান মাসের শবে বরাতে নাযিল হয়েছে। অথচ আমরা সকলে জানি আল-কুরআন নাযিল হয়েছে রামাযান মাসের লাইলাতুল কদরে।
যেমন সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন বলেন :

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ.

অর্থ : রামাযান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন।
৩. অধিকাংশ মুফাচ্ছিরগণের মত হল উক্ত আয়াতে বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল কদরকেই বুঝানো হয়েছে লাইলাতুল বরাতকে নয় ।

শবে বরাত নামটি হাদীসের কোথাও উল্লেখ হয়নিঃ 
প্রশ্ন থেকে যায় হাদীসে কি লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত নেই? সত্যিই হাদীসের কোথাও আপনি শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত নামের কোন রাতের নাম খুজে পাবেন না। যে সকল হাদীসে এ রাতের কথা বলা হয়েছে তার ভাষা হল 'লাইলাতুন নিস্‌ফ মিন শাবান' অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত্রি। শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত শব্দ আল-কুরআনে নেই, হাদীসে রাসূলেও নেই। এটা মানুষের বানানো একটা শব্দ। ভাবলে অবাক লাগে যে, একটি প্রথা ইসলামের নামে শত শত বছর ধরে পালন করা হচ্ছে অথচ এর আলোচনা আল-কুরআনে নেই। সহীহ হাদীসেও নেই। অথচ আপনি দেখতে পাবেন যে, সামান্য নফল 'আমলের ব্যাপারেও হাদীসের কিতাবে এক একটি অধ্যায় বা শিরোনাম লেখা হয়েছে।

ইসলামের যাবতীয় বিষয়াবলী দু' প্রকার (ক) আকীদাহ বা বিশ্বাস (খ) 'আমল বা কাজ। কোন 'আমল বা কাজ ইসলামের শরীয়ত সম্মত হওয়ার জন্য অবশ্যই কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াস এই চারটির যে কোন একটি দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। কিন্তু আকীদাগত কোন বিষয় অবশ্যই কুরআন অথবা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। ইজমা অথবা কিয়াস দ্বারা আকীদাহর কোন বিষয় প্রমাণ করা যাবে না।

এ সকল বিষয় জেনে বুঝেও যারা 'শবে বরাত' এর অপপ্রচার চালায় এবং সাধারণ মানুষদের গোমরাহ করে তাদের প্রতি বিচার দিনের মালিকই ব্যাবস্থা নিবেন।

এখন একটি বিষয় হল, শবে বরাত সম্পর্কে যে সকল ধর্ম বিশ্বাস বা আকীদাহ পোষণ করা হয় তা কিন্তু কোন দুর্বল হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত হয় না। যেমন ভাগ্যলিপি ও বাজেট প্রনয়নের বিষয়টি। যারা বলেন : ''আমলের ফাযীলাতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস গ্রহণ করা যায়, অতএব এর উপর ভিত্তি করে শবে বরাতে 'আমল করা যায়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন : তাহলে শবে বরাতের আকীদাহ সম্পর্কে কি দুর্বল হাদীসেরও দরকার নেই?
অথবা এ সকল প্রচলিত আকীদাহর ক্ষেত্রে যদি কোন দুর্বল হাদীস পাওয়াও যায় তাহলে তা দিয়ে কি আকীদাহগত কোন মাসয়ালা প্রমাণ করা যায়? আপনারা শবে বরাতের আমলের পক্ষ সমর্থন করলেন কিন্তু আকীদাহর ব্যাপারে কি জবাব দিবেন?
কাজেই শবে বরাত শুধু 'আমলের বিষয় নয়, আকীদাহরও বিষয়। তাই এ ব্যাপারে ইসলামের দা'য়ীদের সতর্ক হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছি।
যদি শব-ই- বরাত সম্পর্কে এ বিশ্বাস পোষণ করা হয় যে, আল্লাহ তা'আলা এ রাতে আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, তিনি এ রাতে মানুষের হায়াত, রিয্‌ক ও ভাগ্যের ফায়সালা করে থাকেন, এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগীতে লিপ্ত হলে আল্লাহ হায়াত ও রিয্‌ক বাড়িয়ে সৌভাগ্যশালী করেন ইত্যাদি ইত্যাদি তাহলে এটা কি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মত অন্যায় নয়?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন :
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ. (الصف : ৭)
অর্থ : তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে? (সূরা সাফ, ৭)
এখন যদি কোন একটা প্রথা যুগ যুগ ধরে কোন অঞ্চলের মুসলিম সমাজে চলে আসে, তাহলে তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ বহন করেনা। এটা বলা ঠিক হবে না যে, শত শত বছর ধরে যা পালন করে আসছি তা না জায়েয হয় কিভাবে? বরং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার জন্য অবশ্যই শর'য়ী দলীল থাকতে হবে।
দুর্বল বা জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইসলামী শরীয়তে কোন আকীদাহ ও আমল চালু করা যায় না। 

রসুল (সাঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি দ্বীনে এমন কিছু শুরু করল যা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যখ্যান করা হবে”. [বুখারি ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮]

তিনি আরো বলেনঃ “সর্বাপেক্ষা উত্তম বানী হল আল্লাহর, সর্বাপেক্ষা উত্তম পথনির্দেশ হল তাঁর রসুলের আর সর্বাপেক্ষা খারাপ কাজ হল নব উদ্ভাবিত বিষয় গুলো (বিদাত); সকল বিদাত ই পথভ্রষ্টতা” । (মুসলিম ৮৬৭)

এবং আরো একটি হাদিস বলতে চাইঃ
“সকল ভ্রষ্টতা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়” (নাসাঈ ১৪৮৭)

পোস্টটি শেয়ার করে আপনি আপনার প্রিয়জন কে জানিয়ে দিন , যাতে তারা সবাই এই দিন তা থেকে বিরত থাকে । সবাইকে ধন্যবাদ 

তালাক দেয়ার মাসায়েল

১। নিতান্ত অপারগতা ছাড়া তালাক দেয়া জুলুম ও অন্যায় ।
২। নিতান্ত ঠেকা ব্যতীত স্বামীর নিকট তালাক চাওয়া মহাপাপ ।
৩। কোন কল্যাণ ও প্রয়োজনে তালাক দেয়া মোবাহ বা জায়েয ।
৪। স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য কষ্টদায়ক হয় বা স্ত্রী নামায সম্পূর্ণ পরিত্যাগ-কারিণী হয় বা স্বামীর অবাধ্য হয়, তাহলে সে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়া মোস্তাহাব বা উত্তম । বোঝানো সত্ত্বেও যে স্ত্রী অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয় তাকেও তালাক দিয়ে দেয়া মোস্তাহাব ।
৫। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর হক আদায় করতে অক্ষমতা দেখা দিলে তালাক দেয়া ওয়াজিব। তবে স্ত্রী তার হক মাফ করে দিলে ওয়াজীব থাকে না ।
৬। নিজের কানে শোনা যায়- এতটুকু শব্দে তালাক দিলেই তাকাল হয়ে যায়, স্ত্রীর বা অন্য কারও শোনা যাওয়া জরুরি নয় ।
৭। হাসি-ঠাট্রা করে বা রাগের মুহূর্তে বা নেশা করে মাতাল হয়ে, ঐ অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায় ।
৮। তালাক দেয়ার ক্ষমতা স্বামী ব্যাতীত অন্য কারও নেই । অবশ্য স্বামী কাউকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা দিলে সে তালাক দিতে পারে ।
৯। হায়েয নেফাসের অবস্থায় তালাক দিলে তালাক হয়ে যায় । তবে হায়েয নেফাসের অবস্থায় তালাক দেয়া গোনাহ ।
১০। একসঙ্গে তিন তালাক দেয়া হারাম ও গোনাহে কবীরা । তবে একসঙ্গে তিন তালাক দিলেও তিন তালাক হয়ে যাবে এবং স্ত্রী তার জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যাবে । এমতাবস্থায় নিয়ম মাফিক অন্য স্বামীর ঘর হয়ে ঘুরে না আসলে আর তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখার বা বিয়ে করার উপায় থাকবে না ।
১১। কারও চাপ, জোর-জবরদস্তী বা হুমকির মুখে তালাক দিলেও তালাক হয়ে যাবে।
 বিঃ দ্রঃ তালাকের বিভিন্ন শব্দ এবং তালাকের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে । তালাকের শব্দ অ প্রকারের পার্থক্যের ভিত্তিতে হুকুমেরও পার্থক্য হয়ে থাকে । তাই তালাক সম্পর্কিত কোনো ঘটনা ঘটলে মুফতীদের থেকে সমাধান জেনে নিতে হবে ।
তালাক দেয়ার তরীকাঃ 
তালাক দেয়ার তিনটি তরীকা বা পন্থা রয়েছে । যথা- (১) অতি উত্তম, (২) উত্তম এবং (৩) বিদআত ও হারাম । এই তিনটি তরিকা সম্বন্ধে বিবরন দেয়া হলো ।
১। তালাক দেয়ার অতি উত্তম তরীকা হল- স্ত্রী যখন হায়েয থেকে পাক হবে তখন (অর্থাৎ, তহুর বা পাকীর সময়ে) এক তালাক দিবে এবং শর্ত এই যে, এ তহুরের মধ্যে তার সাথে সহবাস হতে পারবে না । এর পরবর্তী হায়েয থেকে তার ইদ্দাত শুরু হবে এবং তিন হায়েয অতিবাহিত হলে তার ইদ্দত শেষ হবে । এই ইদ্দতের মধ্যে আর কোনো তালাক দিবে না । ইদ্দাত শেষ হলে বিয়ে ভেঙ্গে যাবে ।
২। তালাক দেয়ার উত্তম তরীকা হল- স্ত্রী হায়েয থেকে পাক হলে তহুরের মধ্যে এক তালাক দিবে । তারপর তৃতীয় হায়েয গিয়ে দ্বিতীয় তহুর এলে তাতে আর এক তালাক দিবে । তারপর তৃতীয় অহুরে আর এক তালাক দিবে । এভাবে তিন তহুরে তিন তালাক দিবে এবং ঐ সময়ের মধ্যে ঐ স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না।
৩। তালাকের বিদআত ও হারাম তরীকা হল- উপরোক্ত তরীকাদ্বয়ের বিপরীত নিয়মে তালাকে দেয়া। যেমনঃ একসঙ্গে তিন তালাক দেয়া বা হায়েযের সময় তালাক দেয়া বা যে তহুরে সহবাস হয়েছে সেই তহুরে তালাক দেয়া। এসব অবস্থায় তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়, তবে গোনাহ হয়। অতএব তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

ইদ্দতের মাসায়েলঃ
(স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হলে বা তার স্বামীর মৃত্যু হলে যে সময়ের জন্য উক্ত স্ত্রীকে এক বাড়ীতে থাকতে হয়, অন্যত্র যেতে পারে না বা অন্য কোথাও বিয়ে বসতে পাবে না, তাকে ইদ্দত বলে । ইদ্দতের মাসায়েল নিম্নরূপ।)
* স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হলে তালাকের তারিখের পর পূর্ণ তিন হায়েয অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত স্ত্রীর পক্ষে অন্য কোথাও বিয়ে বসা হারাম।
* উক্ত ইদ্দতের সময়ে তাকে স্বামীর বাড়ীতেই নির্জন বাসস্থানে থাকতে হবে ।
* উক্ত স্ত্রী বয়স কম হওয়ার কারণে বা বৃদ্ধ হওয়ার কারণে হায়েয না আসলে তিন হায়েযের পরিবর্তে পূর্ণ তিন মাস উপরোক্ত  নিয়মে ইদ্দত পালন করতে হবে ।
* গর্ভাবস্থায় তালাক হলে সন্তান প্রসব হওয়া মাত্রই ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে, চাই যত তাড়াতাড়ি প্রসব হোক কেন ।
* হায়েযের অবস্থায় তালাক হলে সে হায়েযকে ইদ্দতের মধ্যে ধরা যাবে না। সে হায়েয বাদ দিয়ে পরবর্তী পূর্ণ তিন হায়েয ইদ্দত পালন করতে হবে ।
* যদি কোন স্ত্রীর সাথে স্বামীর সহবাস বা নির্জনবাস হওয়ার পূর্বেই স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে তাকে ইদ্দত পালন করতে হয় না ।
* কোনো বিয়ে যদি অবৈধ হয় এবং সহবাসও হয়, তাহলে ঐ পুরুষ যখন তাকে পরিত্যাগ করবে তখন থেকে ইদ্দত পালন করতে হবে ।
* যে স্ত্রীর স্বামী মারা যায় তার ইদ্দত হল চার মাস দশ দিন আর গর্ভবতী হলে তার ইদ্দত সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত ।
* স্বামীর মৃত্যু চাদের প্রথম তারিখে হলে চাদের হিসাবে চার মাস দশ দিন ধরা হবে। আর চাদের প্রথম তারিখ ছাড়া অন্য যেকোনো তারিখে মৃত্যু হলে ৩০ দিনের চার মাস এবং তারপর ১০ দিন অর্থাৎ, ১৩০ দিন ইদ্দত পালন করবে। স্ত্রী ঋতুবতী বা গর্ভবতী না হলে যদি তাকে তালাক দেয়া হয়, তাহলে চাদের ১ম তারিখে তালাক হলে চাদের হসাবে তিন মাস আর আন্য তারিখে তালাক হলে ৩০ দিনের মাস অর্থাৎ, ৯০ দিন ইদ্দত ধরা হবে ।
* স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী ইদ্দত পালন করবে । তার গর্ভ থাকলে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত, অন্যথায় চার মাস দশ দিন পর্যন্ত এই ইদ্দত পালন করবে । এ সময়ে সে সাজ-সজ্জা এবং রূপ চর্চা থেকে বিরত থেকে শোক পালন করবে। স্বামীর মৃত্যুর সময় সে যে ঘরে বসবাস করত সেখানেই থাকবে, সেখান থেকে বের হবে না । ভাড়ার বাসা হলে ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা থাকলে সেখানেই থাকবে । তবে নিরাপত্তার অভাব হলে নিকটতম স্থানে স্থানান্তরিত হয়ে ইদ্দত পালন করবে। এ সময়ের মধ্যে সে কারও সঙ্গে বিবাহ বসতে পারবে না । 
আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ)

এই হাদিস টিঃ আহকামে যিন্দেগী বই থেকে নেয়া । 
পেজ নং : ৪২৩ -৪২৬।

ইসলামের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ

"আসসালামুয়ালাইকুম" আসা করি সবাই ভালো আছেন , সামনে আসছে পহেলা নবর্বষ। ইসলাম এই নবর্বষ কে হারাম করে দিয়েছে। কারন বর্তমানে নবর্বষ পালন করা মানে অশ্লীলতা কাজে জরিয়ে পরা। নারীকে জড়িয়ে ধরে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা করা এবং আরো কত কি । আরও অনেক কিছু জানার জন্য দয়া করে সম্পূর্ন লেখাটি পড়েন । সবাইকে ধন্যবাদ । 

এপ্রিল মাসে আমরা বাংলাদেশীরা একটি উৎসব করে থাকি, তা হলো ১৪ই এপ্রিল। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা। প্রজারা চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারগন প্রজাদের মিষ্টি মুখ করাতেন এবং কিছু আনন্দ উৎসব করা হত। এছাড়া বাংলার সকল ব্যবসায়ী ও দোকানদার পহেলা বৈশাখে “হালখাতা” করতেন। পহেলা বৈশাখে এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটি মূলতঃ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন নিয়ম কানুনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে কাজ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ছিল। এ ধরনের কিছু মূলত ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

কিন্তু বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এমন কিছু কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে যা কখনোই পূর্ববর্তী বাঙালিরা করেনি। পহেলা বৈশাখের নামে যুবক-যুবতী , কিশোর কিশোরীকে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এদেশের মানুষ যা জানত না, এখন পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের নামে তা আমাদের সংস্কৃতির অংশ বানানো হচ্ছে।

আমাদের দেশজ সংস্কৃতির অনেক ভাল দিক আছে। সামাজিক শিষ্টাচার, জনকল্যাণ, মানবপ্রেম ইত্যাদি সকল মূল্যবোধ আমরা সমাজ থেকে তুলে দিচ্ছি। পক্ষান্তরে দেশীও সংস্কৃতির নামে অশ্লীলতার প্রসার হচ্ছে। বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, মাদকতা ও অপরাধ একসূত্রে বাধা। অনন্যা অপরাধ ও অশ্লীলতার মধ্যে পার্থক্য হল কোন একটি উপলক্ষে একবার এর মধ্যে নিপতিত হলে সাধারণভাবে যুবক-যুবতী , কিশোর কিশোরী আর এ থেকে বেরোতে পারে না। বরং আরও বেশী পাপ ও অপরাধে নিপতিত হতে থাকে। কাজেই নিজে, নিজের পরিজন ও সন্তানদেরকে সকল অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করুন।

আল্লাহ বলেছেনঃ 
“তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। যার ইন্দন হবে মানুষ ও পাথর,যার উপর নিয়জিত রয়েছেন কঠোর হৃদয় সম্পন্ন ফেরেশতাগন, তারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তা বাস্তবায়নে অবাধ্য হন না।,আর তাদের যা নির্দেশ দেয়া হয় তা-ই তামিল হয়” (সুরাহ আত- তাহরীমঃ ০৬)

নবর্বষের অনুষ্টানাদি শয়তানের পুরোনো কূটচালের নবায়নঃ
আমাদের সমাজে যারা নবর্বষ যারা করে, তারা কি ধরনের অনুষ্ঠান পালন করে, আর সেগুলো সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কি? নবর্বষের অনুষ্টানাদির মধ্যে রয়েছেঃ ব্যান্ড সঙ্গীত বা অন্যান্য গান-বাজনা ব্যবস্থা, সম্ভ্রান্ত পল্লীর বাড়ীতে বা ক্লাবে গান-বাজনা মদ্যপান, পান শেষে ব্যভিচারের আয়োজন , পরিবেশ এছাড়া পটকা ফুটিয়ে বা আতশবাজি পুড়িয়ে রাত ১২টায় হৈ হুল্লোড় করে প্রতিবেশের শান্তি বিনষ্ট করে নবর্বষকে স্বাগত জানানো । এবং রেডিও টিভিতে বিশেষ অনুষ্টান তো রয়েছেই।

নারীকে জড়িয়ে বিভিন্ন অশ্লীলতাঃ
নববর্ষের পার্টি বা উদযাপন আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে নারীর। নবর্বষের অনুষ্টানের মধ্যে সমাজ-বিধ্বংসী যে বিষয়গুলো পাওয়া যাবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারীকে জড়িয়ে ধরে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা। নবর্বষের পার্টি বা উদযাপন আয়োজনের সবর্ত্রই সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী নারীকে পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হয়ে থাকা দেখা যাবে । পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে যে সকল আকষর্ণীয় বস্তু দ্বারা পরীক্ষা করে থাকেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারী। রাসূলুল্লাহ(সা.) বলেন:
“আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।,, 
(বুখারী ও মুসলিম )

➤ অপরদিকে মুসলিমদের উৎসব হচ্ছে ইবাদতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই বিষয়টি বুঝতে হলে ইসলামের সার্বিকতাকে বুঝতে হবে। ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং তা মানুষের গোটা জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী বিন্যস্ত ও সজ্জিত করতে উদ্যোগী হয়। তাই একজন মুসলিমের জন্য জীবনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইবাদত, যেমনটি কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিচ্ছেন। 
“আমি জ্বিন ও মানুষকে আমার ইবাদত করা ছাড়া অন্য কোন কারণে সৃষ্টি করিনি।”
 [সূরা যারিয়াত:৫৬]

➤ কেউ যদি এই ধারণা পোষণ করে যে, নববর্ষের প্রারম্ভের সাথে কল্যাণের কোন সম্পর্ক রয়েছে, তবে সে শিরকে লিপ্ত হল, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করল। যদি সে মনে করে যে আল্লাহ এই উপলক্ষের দ্বারা মানবজীবনে কল্যাণ বর্ষণ করেন, তবে সে ছোট শিরকে লিপ্ত হল। আর কেউ যদি মনে করে যে নববর্ষের আগমনের এই ক্ষণটি নিজে থেকেই কোন কল্যাণের অধিকারী, তবে সে বড় শিরকে লিপ্ত হল, যা তাকে ইসলামের গন্ডীর বাইরে নিয়ে গেল। আর এই শিরক এমন অপরাধ যে, শিরকের ওপর কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে চিরতরে হারাম করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

“নিশ্চয়ই যে কেউই আল্লাহর অংশীদার স্থির করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন, আর তার বাসস্থান হবে অগ্নি। এবং যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” [সূরা মায়িদাহ :৭২]

➤ সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষ সংক্রান্ত যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা নিচে দেয়া হল যে চারটি শ্রেণীর ইসলাম বিরোধী বিষয় রয়েছে।
১. শিরকপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি, চিন্তাধারা ও সংগীত

২. নগ্নতা, অশ্লীলতা, ব্যভিচারপূর্ণ অনুষ্ঠান
৩. গান ও বাদ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান
৪. সময় অপচয়কারী অনর্থক ও বাজে কথা এবং কাজ।

আসা করি লেখা গুলো সবার ভালো লাগবে। আসছে পহেলা নবর্বষ আমরা যারা মুসলমান আছি তারা সবাই সাবধান হয়ে যাই। এবং পোস্টি শেয়ার করে আপনি আপনার প্রিয় জনকে সাবধান করে দেন যাতে এইসব অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে । সবাই কে ধন্যবাদ ।

হাদিস -১

➤  অযু শেষে কোন কালেমা পড়লে জান্নাতী হইবে ? 
উত্তরঃ নবী করীম (সা.) ফরমান, যে ব্যাক্তি পরিপূর্ণভাবে অযু করা শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের ৮ টি দরজা খুলে যাবে সে যে দরজায় ইচ্ছায় প্রবেশ করতে পারবে ।                                                                                          (ফাযায়ালে আমাল )
➤ মৃত্যুর সময়ে কোন কালেমা পড়লে যাবতীয় গুনাহ মাফ হয়ে? 
উত্তর ঃ লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ !   (কালেমার আমল )
কোন কালেমা বড় এবং পাঠকারীর গুনা মাফ করিয়ে ছাড়ে ? 
উত্তর ঃ নবী করীম (সা.) ফরমান ( لا إله الله  ) হতে বড় কোন আমল হতে পারে না । এবং এটা পাঠকারীর গুনাহকে মাফ না করিয়ে ছাড়ে না ।
কোন মহিলাকে পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং ১২ বছরের নেকী দেয়া হবে ? 
উত্তর ঃ  যে মহিলার সন্তানের অসুখের কারণে রাতে ঘুমাতে পারে না এবং সন্তানের সেবা করে, আল্লাহ্‌ তায়ালা ঐ মহিলাকে পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং তাকে ১২ বছরের নেকী দেবেন ।
➤ কোন মহিলাকে কাবা শরীফ ঝাড়ু দেয়ার নেকী দেয়া হবে ? 
উত্তর ঃ যে মহিলা জিকিরের সাথে ঘড় ঝাড়ু দিবে আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে খানায়ে কাবা ঝাড়ু দেয়ার নেকি দিবেন ।
➤ কোন মহিলা উত্তম ও কোন মহিলা নিকৃষ্ট ? 
 উত্তর ঃ একজন নেককার মহিলা ৭০ জন অলির চেয়েও উত্তম এবং একজন বদকার নারী ১ হাজার বদকার পুরুষের চেয়েও নিকৃষ্ট ।
কোন মহিলার নামাযে ৮০ গুন নেক বেশি ? 
উত্তর ঃ একজন গর্ভবতী মেয়ে লোকের ২ রাকাত নামায এবং একজন গর্ভহীন নারীর ৮০ রাকাত নামাযের চেয়েও উত্তম ।
➤ কোন মহিলাকে ৭ তোলা স্বর্ণ সদকা করার ছাওয়াব দেয়া হবে । 
উত্তর ঃ যে মহিলার হুকুমের পূর্বে তার স্বামীর খেদমত করবে আল্লাহপাক তাকে ৭ তোলা স্বর্ণ সদকা করার নেকী দান করবেন এবং যে মহিলা তার স্বামীর রাজী সন্তুষ্ট অবস্থায় মারা যায় তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। 
➤ কোন ব্যক্তি ৭০ বছরের নেকী পাবে ? 
উত্তর ঃ যে স্বামী স্ত্রীকে ১টি মাসয়ালা শিক্ষা দিবেন, তিনি ৭০ বছর নফল এবাদতের ছাওয়াব পাবেন ।  
কোন মহিলাকে ৭০ বছরের নেকী দেয়া হবে ? 
উত্তর ঃ যে মহিলার সন্তান প্রসব হয় তাকে ৭০ বছরের নফল নামায এ নফল রোজার নেকী দেয়া হবে হবে । প্রসবের প্রতি বারের ব্যথার জন্য হজ্বের নেকী দেয়া হবে । 
কি করিয়া নামাজ পড়লে প্রতি রাকাতে ৭০ গুন বেশি নেকী ? 
উত্তর ঃ মাথায় টুপি পাগড়ী পরে নামাজ পড়লে প্রতি রাকাতে ৭০ গুন নেক। 
কিয়ামত পর্যন্ত কোন ব্যক্তির নেকী লেখা হতে থাকে । 
উত্তর ঃ কোরানের ১টি আয়াত/বিষয় কাউকে শিক্ষা দিলে ঐ ব্যক্তির নেকি কিয়ামত পর্যন্ত আমলনামায় লেখা হতে থাকবে                  (কাঃ উম্মাল)
কোন দিনে মরলে ফেরেস্তারা   কিয়ামত পর্যন্ত হিসাব নিবে না ?
উত্তরঃ  জুমার দিন মারা গেলে কিয়ামত পর্যন্ত ফেরেস্তারা হিসাব নিকাশ নিবে না । শহিদ হিসেবে গণ্য হবে, কবরের আযাব মাফ হবে।         (মাঃ কুরআন)
 অযু করার সময় কোন কাজ করলে ৭০ গুন বেশি নেকী এবং ৫০ বছর নামায রোজার ও ঈমানের সাথে মৃত্যু হবে ?
উত্তরঃ  বিসমিল্লাহ পড়ে মিছওয়াক সহকারে অযু করলে ৭০ গুন ছাওয়াব বেশি এবং অযু শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে কালেমা শাহাদাত পাঠ করলে ঈমানের সাথে মৃত্যু হবে এবং সুরা কাদর পাঠ করলে ৫০ বছর নফল রোযা  রাখার ছাওয়াব পাবে এবং অযু শেষে একাগ্রতার সাথে ২ রাকাত নামায পড়লে পেছনের সমস্ত গুণা মাফ হয়ে যাবে ।  (মিশকাত, আহমদ, ফাঃ আমল )
কোন দিন দরুদ পড়লে ততক্ষণাৎই নবিজির নিকট পৌছে যায় ?
উত্তরঃ জুমার দিন দরুদ পড়লে তৎক্ষণাৎই নবীজির নিকট পৌছে দেয়া হয় এবং বেশি বশি দরুদ শরীফ পড়লে নবীজিকে স্বপ্নে দেখা নছীব হয় ।              (মুসলিম) 
কয়টি হদিস মুখস্থ করলে নবী (সা.) তার জন্য সুপারিশ করবেন ।
উত্তরঃ যে ব্যাক্তি ৪০ টি হাদিস মুখস্থ করবে সে ফকীহ হিসেবে গণ্য হবে এবং কিয়ামতের দিন নবী করীম (সা.) তার জন্য সুপারিশ করবেন ।              (কা উঃ)

সহবাসের সুন্নাত, আদব ও বিধি-নিষেধসমূহ

১। সংগম শুরু করার পূর্বে নিয়ত  সহীহ করে নেয়া ; অর্থাৎ এই নিয়ত করা যে, এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূর্ণ করা দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তৃপ্তি লাভ হবে এবং তার দ্বারা কষ্ট-সহিষ্ণু হওয়া যাবে, ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে। 
২। কোনো শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত না হওয়া।  
৩। পর্দা-ঘেরা স্থানে সংগম করা।  
৪। সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন-মর্দন ইত্যাদি) করবে।  
৫। বীর্য, যৌনাঙ্গের রস ইত্যাদি মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় রাখা।  
৬। বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা।  
৭। শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া।  
৮। সংগম অবস্থায় বেশি কথা না বলা। 
৯। সংগম অবস্থায় স্ত্রীর-যোনীর দিকে নজর না দেয়া।  তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন সংগম অবস্থায় স্ত্রীর-যোনীর দিকে দৃষ্টি দেয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। 
১০। বীর্যের প্রতি দীর্ঘ দৃষ্টি না দেয়া। 

১১। বীর্যপাতের পরই স্বামীর নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর উপর অপেক্ষা করা, যেন স্ত্রীও তার খাহেশ পূর্ণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে।  
১২। সংগম শেষে পেশাব করে নেয়া জরুরি।  
১৩। সংগমের পর সাথে সাথে গোসল করে নেয়া উত্তম। অন্তত উযূ করে নেয়া।  
১৪। স্বপ্নদোষের পর সংগম করতে হলে পেশাব করে নিবে এবং যৌনাঙ্গ ধুয়ে নিবে।  
১৫। এক সংগমের পর পুনর্বার সংগমে লিপ্ত হতে চাইলে যৌনাঙ্গ এবং হাত ধুয়ে নিতে হবে। 
১৬। সংগমের পর অন্তত কিছুক্ষন ঘুমানো উত্তম 
১৭। জুমার দিন সংগম করা মোস্তাহাব। 
১৮। সংগমের বিষয় কারও নিকট প্রকাশ করা নিষেধ। এটা একদিকে নির্লজ্জতা, অন্যদিকে স্বামী/স্ত্রীর হক নষ্ট করা।  

হায়েয নেফাস অবস্থায় সংগম ইত্যাদির বিধি-নিষেধঃ
* হায়েয নেফাস অবস্থায় যৌন সংগম থেকে বিরত থাকা ফরয এবং যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়া হারাম। 
* হায়েয অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে একত্রে শয়ন ও একত্রে পানাহার অব্যাহত রাখা সুন্নাত।  (এতে মজূসী বা অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ করা হয় ।)
* হায়েয অবস্থায় স্ত্রী পুরাতন আকর্ষণহীন কাপড়-কাপড় পরিহিতা থাকবে, যাতে তাকে দেখলে স্বামীর উত্তেজনা হ্রাস পায়, বৃদ্ধি না ঘটে।  
* হায়েয নেফাস অবস্থায় নামাজ পড়বে না।  
* নামাযের সময়ে উযূ করে নামাযের স্থানে নামায আদায় পরিমান সময় বসে থেকে সুবহানাল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকবে, যেন ইবাদতের অভ্যাস বজায় থাকে।  
(এটা মোস্তাহাব)
* হায়েয অবস্থায় মহিলা প্রতি নামাযের ওয়াক্তে সত্তর বার এস্তেগফার পাঠ করবে।  

জানাবাত (বে-গোসল) অবস্থার বিশেষ বিধি-নিষেধসমূহঃ
* জানাবাত অবস্থায় নখ, কাটা বা নাভির নিচের হাজামত (ক্ষৌরকার্য) বানানো মাকরূহ।  
* জানাবাত অবস্থায় মসজিদে গমন করা, কাবা শরীফ তওয়াফ করা কুরআন শরীফ স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা এবং নামায পড়া নিষেধ। তবে দুআ হিসেবে কোন আয়াত পড়তে পারে। ( এতে এক হাজার রাকআত নামাযের ছওয়াব হবে, এবং সত্তরটি গোনাহ মাফ হবে এবং দরজা বুলন্দ হবে ইত্যাদি ।)
* জানাবাত অবস্থায় কালিমা, দুরূদ শরীফ,যিকির, এস্তেগফার বা কোন ওজিফা পাঠ করতে নিষেধ নেই।  
* জানাবাত অবস্থায় কুলি করা ব্যাতিত পানি পান করা মাকরূহ তানযিহী।  
* জানাবাত অবস্থায় হাত ধোয়ার পূর্বে কিছু পানাহার করা মাকরূহ তানযিহী। 
(আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ)

এই হাদিস টিঃ আহকামে যিন্দেগী বই থেকে নেয়া । 
পেজ নং : ৫০৮ -৫১০।

বিবাহ পার্ট ২

মহর সম্পর্কিত মাসায়েল ঃ  
* মহর পরিশোধ করা ওয়াজিব । তাই নাম শোহরতের জন্য সাধ্যের অতিরিক্ত মহর ধার্য করা অপছন্দীয় । 
* রাসূল (সা:) তার কন্যা ফাতেমার জন্য যে মহর ধার্য করেছিলেন , তাকে "মোহরে ফাতিমী" বলা হয়।  বর্তমানের হিসেবে তার পরিমান কি, এ ব্যাপারে তিনটি উক্তি পাওয়া যায় (১) ১৩১¼ তোলা রূপার সমপরিমাণ (২) ১৪৫¾ তোলা রত্তি রূপার সমপরিমাণ। (৩) ১৫০ তোলা রূপার সমপরিমাণ সতর্কতা স্বরূপ ১৫০ তোলার মতটি গ্রহণ করা যায়। বর্তমানে প্রচলিত গ্রাম-এর ওজন  হিসেবে ১৫০ তোলা= ১৭৪৯,৬০০ গ্রাম। খুচরা বাকীটুকু পূর্ণ করে দিয়ে ১৭৫০ গ্রাম ধরা চলে। 
* কমের পক্ষে মহরের পরিমান দশ দেরহাম (অর্থাৎ, প্রায় পৌণে তিন তোলা রূপার সমপরিমাণ ) এর বেশি যতো দিতে পারো এর কোন সীমা নেই। তবে খুব বেশি মহর ধার্য করা ভাল নয়।  
* বিবাহের সময় মহর ধার্য হলে এবং বাসর ঘর অতিবাহিত হলে ধার্যকৃত পূর্ণ মহর দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।  আর বাসর ঘর হওয়ার পূর্বে তালাক হলে ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক দেয়া ওয়াজিব হয়।  
* বিবাহের সময় মহরের উল্লেখ না হলে 'মহরে মেছেল' ওয়াজিব হয় আর এরূপ ছুড়তে বাসর ঘর হওয়ার পূর্বেই তালাক হয়ে গেলে সে মেয়েলোকটি মহর পাবে না- শুধু একজোড়া কাপড় পাবে।  একজোড়া কাপড়ের অর্থ লম্বা হাত ওয়ালা একটা জামা , একটি উড়না বা ছোট চাদর ও একটি পায়জামা। অথবা একটা শাড়ি ও একটা বড় চাদর যার দ্বারা আপাদ মস্তক ঢাকা যায়।  
* "মহরে মেছেল" বা খান্দানি মহর বিবেচনার ক্ষেত্রে বাপ দাদার বংশের মেয়েদের যেমন বোন, ফুফু, ভাতিজী, চাচাত বোন প্রমুখের মহর দেখতে হবে। এবং এই খান্দানি মহর নিরূপনের ক্ষেত্রে যুগের পরিবর্তনে, স্থানের পরিবর্তনে, রূপগুন, বয়স, পাত্র, দ্বিতীয় এবং বিবাহের তারতম্যে মহরের যে তারতম্য হয়ে থাকে তও বিবেচনায় আনতে হবে।  
* স্বামীর যদি মহরের নিয়তে (খোরাক, পোশাক ও বাসস্থান ব্যতিরেকে ) কিছু টাকা বা অন্য কোন মাল জিনিস দেয়, তাহলে তার মহর থেকেই কাটা যাবে।  
* স্বামী যদি স্ত্রীকে ধমক দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে বা লজ্জায় ফেলে বা অন্য কৌশলে ও অসুদপায়ে স্ত্রীর আন্তরিক ইচ্ছা না থাকা সত্বেও তার দ্বারা মহর মাফ করিয়ে নেয় তবে তাতে মহর মাফ হয়ে যায় না।

ওলীর বর্ণনা ঃ 
* ছেলে/মেয়েকে যে বিবাহ দেয়ার ক্ষমতা রাখে তাকে ওলী বলে। ওলীর জন্য আকেল বালেগ এবং মুসলমান হওয়া শর্ত।  
* ছেলে/মেয়ের সর্বপ্রথম ওলী তাদের পিতা, পিতা না থাকলে দাদা, তারপর পরদাদা, তাদের কেউ না থাকলে আপন ভাই  তারপর বৈমাত্রেয় ভাই, তারপর আপন ভাইয়ের ঘরের ভাতিজা তারপর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ঘরের ভাতিজা (উপরোক্ত তারতীব অনুযায়ী) যদি কোন পুরুষ ওলীগণ না থাকে তাহলে মা ওলী হবে। তারপর দাদি, তারপর নানী , তারপর নানা , তারপর আপন বোন, তারপর বৈমাত্রেয় বোন , তারপর বৈপিত্রেয় ভাই-বোন , তারপর ফুফু, তারপর মামা, তারপর চাচাত বোন।
* এক শ্রেণীর কয়েকজন ওলী থাকলে বড় জন অন্যদের সাথে পরামর্শ ক্রমে কাজ করবে।  বড় জনের অনুমতি নিয়ে অন্যরাও কাজ করতে পারে।  
* মেয়ে বালেগা হলে ওলীর বিনা অনুমতিতে সে সমান ঘরে বিবাহ বসতে পারে , কিন্তু সমান ঘরে বিবাহ না বসে নিচ ঘরে বিবাহ বসলে এবং ওলী তাতে মত না দিলে সে বিবাহ দুরস্ত হবে না।  

এযেন নেয়ার তরীকা ও মাসায়েল ঃ 
* মেয়ে যদি ছেলেকে পূর্বে থেকে না চিনে তাহলে এযেন (অনুমতি /সম্মতি ) নেয়ার সময় মেয়ের সামনে ছেলের নাম-ধাম, পরিচয় ও মহরের কথা তুলে ধরে বলতে হবে "আমি তোমাকে বিবাহ দিচ্ছি বা বিবাহ দিলাম বা বিবাহ দিয়েছি।  তুমি রাজি আছ্ কি না? 
* সাবালেগা অবিবাহিত মেয়ের নিকট এযেন চাওয়ার পর সে (অসম্মতিসূচক কোন ভাব প্রকাশ না করে সম্মতি সূচক ভাব প্রকাশ করে অর্থাৎ, গম্ভীর ভাব ধারণ করে ) চুপ থাকলে বা মুচকি হেসে দিলে বা (মা বাপের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মন বেদনায়) চোখের পানি ছেড়ে দিলে তার এযেন আছে ধরা হবে।  জবরদস্তি তার মুখ থেকে "রাজি আছি" কথা বের করার চেষ্টা নিষ্প্রয়োজন ও অন্যায়।  
* মেয়ে পূর্বে থেকে ছেলেকে না চিনলে এবং তার সামনে ছেলের নাম/ধাম, পরিচয় সুস্পষ্টভাবে তুলে না ধরলে তার চুপ থাকাকে এযেন বা সম্মতি ধরা যাবে না।  
* শরীয়ত অনুসারে যে ওলীর হক অগ্রগণ্য, তিনি বা তার প্রেরিত লোক ব্যতীত অন্য কেউ এযেন আনতে গেলেও সে ক্ষেত্রে মেয়ের চুপ থাকাটা এযেন বলে গণ্য হবে না বরং সে ক্ষেত্রে স্পষ্ট অনুমতির শব্দ উল্লেখ করলেই এযেন ধরা যাবে।  
* যদি মেয়ে বিধবা কিন্বা তালাক প্রাপ্ত হয় তাহলে তার চুপ থাকাটা এযেন বলে গণ্য হবে না বরং মুখ দিয়ে স্পষ্ট কথা (যেমন "রাজি আছি") বলতে হবে। 

বিবাহ মজলিসের কয়েকটি  রছম ও কুপ্রথা ঃ 
* বিবাহের গেটে টাকা ধরা না জায়েয। 
* বিবাহের আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর বর দাঁড়িয়ে হাজিরীন মজলিসকে যে সালাম দিয়ে থাকে, এটা একটা  রছম- এটা পরিত্যাজ্য।  
* বিবাহের পর বর গুরুজনদের সাথে যে মুসাফাহা করে থাকে এটা ভিত্তিহীন  ও বেদআত।  
* বিবাহের পর বধূর মুখ দেখানো রছম ও (পর পুরুষকে দেখানো ) না জায়েয। 

বাসর রাতের কতিপয় বিধান ঃ
* নববধূ মেহেদী ব্যবহার করবে , অলংকার এবং উত্তম পোশাক পরিচ্ছদে সজ্জিত হবে।  
* পুরুষ বাসর ঘরে প্রবেশ করত: নববধূকে সহ দুই রাকআত (শুকরানা) নামায পড়বে। 
অতঃপর স্ত্রীর কপালের উপরিস্থিত চুল ধরে বিসমিল্লাহ বলে দুআ পাঠ করা সুন্নাত-
ওলীমা বিষয়ক সুন্নাত ও নিয়ম সমূহ ঃ
* বাসর ঘর হওয়ার পর (তিন দিনের মধ্যে বা আকদের সময়) আপন বন্দু-বান্দব , আত্মীয়-স্বজন এবং গরীব মিসকীনদেরকে ওলীমা অর্থাৎ, বৌ-ভাত খাওয়ানো সুন্নাত।  কেউ কেউ বাসর হওয়ার পর এবং একদের সময় উত্তম সময়েই এরূপ আপ্যায়ন উত্তম বলেছেন।  
* ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরি নয় বরং প্রত্যেকের সামর্থানুযায়ী খরচ করাই সুন্নাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট।  
* যে ওলীমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত করা হয় এবং দ্বীনদার ও গরীব মিসকিনদের দাওয়াত করা হয় না হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তা  হল সর্ব নিকৃষ্ট ওলীমা, অতএব  ওলীমায় দ্বীনদার ও গরিব মিসকীনদেরকেও  দাওয়াত করা উচিত।  
* আমাদের দেশে যে বরযাত্রী যাওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে এবং কনের পরিবারের পক্ষ থেকে ভোজের ব্যবস্থা করার নিয়ম চালু হয়েছে, এটা শরীয়ত সম্মত অনুষ্ঠান নয়- এটা রছম, অতএব তা পরিত্যজ্য।

(বিবাহ সম্পর্কে সব মাসায়েলা শেষ এখন "তালাক" সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো পরের আর্টিকেলে, আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।)

বিবাহ

যাদের সাথে বিবাহ হারাম :
১।  নিজের সন্তানের সাথে। যেমন ছেলে, পোতা, পরপোতা, নাতি, নাতির ছেলে, ইত্যাদি , যতই নিচের দিকে যাক না কেন। 
২।  বাপ, দাদা, পরদাদা, নানা, পরনানা, ইত্যাদি যতই উর্ধ্বে যাক না কেন।  
৩।  ভাই।  (আপন বা বৈমাত্রেয় বৈপিত্রেয়)  মাতা  ও পিতা উভয়ে ভিন্ন হলে সেরূপ ভাইয়ের সাথে বিবাহ জায়েয।  
৪।  ভাতিজা।  
৫।  ভাগিনা। 
৬।  মামা , অর্থাৎ, মায়ের আপন বা বৈমাত্রেয় বা   বৈপিত্রেয় ভাই।  
৭।  চাচা, অর্থাৎ পিতার উপরোক্ত তিন প্রকার ভাই।  
৮। জামাই, অর্থাৎ মেয়ের সাথে যার বিবাহের আকদ হয়েছে।  (চাই সহবাস হোক বা না হোক )
৯।  মায়ের স্বামী, অর্থাৎ পিতার মৃত্যর পর মা যদি দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করে এবং তার সাথে সহবাস হয়।  
১০।  সতীনের পুত্র।  
১১।  শ্বশুর, তার পিতা, দাদা , পরদাদা ইত্যাদি।  
১২।  ভগ্নির স্বামীর সাথে, যে পর্যন্ত ভগ্নি তার বিবাহে থেকে।  
১৩।  ফুফা এবং খালু, যে পর্যন্ত ফুফু ফুফার খালা খালুর বিবাহ থাকে।  
১৪।  অন্য কোন ধর্মাবলম্বী পুরুষের সাথে।  
১৫।  কারও স্ত্রী থাকা অবস্থায় বা তালাকের পর ইদ্দতের সময় অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ হারাম।  
১৬।  শ্বশুর (আপন)
১৭। কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে যেনা করলে ঐ নারীর মা ও মেয়ে (বা মেয়ের মেয়ে অর্থাৎ, নিম্নদিকের যে কোন মেয়ে) এর সাথে ঐ পুরুষের বিবাহ দুরস্ত নয়।  
১৮।  কোন নারীর কাম ভাবের সাথে বদ নিয়তে অপর কোন পুরুষের শরীর স্পর্শ করলেও উপরোক্ত হুকুম।  তদ্রূপ কোন পুরুষ কামভাব সহ বদ নিয়তে কোন নারীকে স্পর্শ করলেও ঐ পুরুষের সন্তানগণ ঐ নারীর জন্য হারাম হয়ে যায়।  
১৯। ভুলবশত: কামভাবের সাথে কন্যা বা শ্বাশুড়ির  গায়ে হাত দিলে স্ত্রী (অর্থাৎ ঐ কন্যার মা বা ঐ শ্বাশুড়ির মেয়ে ) চিরতরে হারাম হয়ে যায়।  তাকে তালাক দিয়েই দিতে হবে। 
২০।  কোন ছেলে কুমতলবে বিমাতার শরীরে হাত লাগালে বা বিমাতা কুমতলবে বিপুত্রের শরীরে হাত লাগালে ঐ নারী তার স্বামীর জন্য একেবারে হারাম হয়ে যায়। (বেহেশতী জেওর থেকে গৃহীত )
যাদের সাথে বিবাহ জায়েয: 
যাদের সাথে বিবাহ হারাম তারা ব্যতীত অন্য সব পুরুষের সাথে বিবাহ জায়েয , অতএব  যে সব পুরুষের সাথে বিবাহ জায়েয তাদের তালিকা বলে শেষ করার নয়।  কিন্তু যাদের সাথে বিবাহ জায়েয তা সত্ত্বেও সমাজে অনেকে সেটাকে জায়েয মনে করে না বা খারাব মনে করে- এরূপ কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হল।  
১।  এরূপ ভাই যার মা ও বাবা উভয়ে ভিন্ন।  
২।  মার চাচাত , মামাত, ফুফাত, খালাত, ভাইয়ের সাথে বিবাহ জায়েয 
৩।  বাপের চাচাত , মামাত,  ভাইয়ের সাথে বিবাহ জায়েয। 
৪। চাচা শ্বশুর, মামা শ্বশুর, খালু শ্বশুরের সাথে। 
৫। ননদের স্বামী, ভগ্নিপতি (যখন ভগ্নি তার বিবাহে না থাকে ) বিহাই অর্থাৎ ভাইয়ের শ্যালক, ছেলের শ্বশুর, মেয়ের শ্বশুর প্রভৃতির সাথে। 
৬।  ফুফার সাথে (যখন ফুফু তার বিবাহে না থাকে) খালুর সাথে (যখন খালা তার বিবাহে না থাকে)
৭। পালকপুত্র, ধর্মছেলে , ধর্মবাপ, ধর্মভাইয়ের সাথে বিবাহ জায়েয।  

পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের তরিকা :
* সৎ ও খোদাভীরু পত্র-পাত্রীর সন্ধান করতে হবে।   
* পাত্র/পাত্রীর জন্য বংশ, মুসলমান হওয়া, ধর্মপরায়ণতা , সম্পদশালীতা ও পেশায় সম মানের পাত্র / পাত্রী নির্বাচনের বিষয়টি শরীয়তে অভ্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পদশালীতায় সমপর্যায়ের হওয়ার দ্বারা বুঝানো হয়েছে ধনবতী মহিলার জন্য একেবারে নিঃস্ব কাঙ্গাল পুরুষ সমমানের নয়; তবে মহরের নগদ অংশ প্রদানে এবং ভরণ-পোষণ প্রদানে সক্ষম হলে তাকে সমমানের ধরা হবে।  উভয় পক্ষের সম্পদ একই পরিমানে বা কাছাকাছি হতে হবে তা বোঝানো হয়নি।
* পাত্র/পাত্রীর  ধর্মপরায়ণতার দিকটাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।  
* পাত্র/পাত্রীর বয়সের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা সংগত, পাত্রীর চেয়ে পাত্রের বয়স কিছু বেশি হওয়া উত্তম; তবে বহুত বেশি কম হওয়া সংগত নয়।  

পাত্রী দেখা প্রসঙ্গ : 
* বিবাহের পূর্বে পাত্রী দেখে নেয় সুন্নাত।  নিজে না দেখলে বা সম্ভব না হলে কোন মহিলাকে পাঠিয়েও  দেখার ব্যবস্থা করা যায়।  
* পাত্রীর চেহারা এবং হাত দেখার অনুমতি রয়েছে।  
* যে উক্ত নারীকে বিবাহ করতে চায় একমাত্র সে ব্যতীত অন্য কোন গায়ের মাহরামের পক্ষে তাকে দেখা বৈধ নয়।  

বিবাহের দিন, সময় ও স্থান সম্পর্কে কথা : 
* বিবাহ শাউয়াল মাসে এবং জুমুআর দিনে এবং মসজিদে সম্পন্ন করা উত্তম। এ ছাড়াও যে কোন মাসে, যে কোন দিনে, যে কোন সময়ে বিবাহ হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই।  অমুক অমুক দিনে বিবাহ করা ঠিক নয় এ জাতীয় কথা কুসংস্কার এবং এগুলো হিন্দুয়ানী ধ্যান-ধারণা থেকে বিস্তার লাভ করেছে। 

( এই সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন  আবার দেখা হবে বিবাহ  পার্ট ২ তে সবাইকে ধন্যবাদ )